News

বিমানবন্দরে মেজর আখতারুজ্জামানের ঘটনাকে মব বললেন বিমানমন্ত্রী

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জামায়াতের সহযোগী সদস্য ও বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামানের ঘটনাকে ‘মব’ বলে উল্লেখ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিমানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তো ভোগান্তি ছিলই। আমরা ১৫ বছরের ভোগান্তিতে ছিলাম। পানিটা (জমজমের পানি) সব শেষের দিকে থাকে। এটা লিকুইড ফর্মে যেটা থাকে আর কি, হেজার্ডাস জন—এগুলিকে শেষে দেওয়া হয়। আমরাও অনেক সময় দেখেছি যে আমরা লাগেজে তো ৪০ মিনিটের মধ্যে পেয়ে গেছি। বসে আছি, শেষে একদম সব শেষ করে পানিটা আনা হয়। তো হজ করে এসে একটু ধৈর্য ধরা লাগে আর কি।”

তিনি বলেন, “সেই ধৈর্যটা যদি কারো না থাকে, আর যদি ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাহলে তো এটা কালকে পরিলক্ষিত হয়েছে, আমিও দেখেছি। এটা একটা গ্রুপ, যারা সরকারের এই স্বস্তি দেখতে চায় না, অস্থির করতে চায় সরকারকে। এবং সরকারের যে ইচ্ছা আছে যে সুন্দর, সাবলীলভাবে সবকিছু চলুক, সেগুলির বিরুদ্ধাচারণ করার জন্য যে একটি দল রয়েছে, সেই দলের লোকেরাই তো এই কাজটি করেছে, তাই না? এবং এ দলের লোকেরা যে কাজটি করেছে, সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে।”

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে কর্মকর্তাকে মারতে যাওয়ার অভিযোগও তোলেন বিমানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “সরকারের এখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, যিনি এই এয়ারপোর্টের দায়িত্বে নিয়োজিত, তিনি এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর, গ্রুপ ক্যাপ্টেন, তাকে উদ্ধত হয়ে মারতে গিয়েছে, একজনকে মেরেছে। তো এই যে ঘটনাগুলি, এগুলি অনভিপ্রেত এবং এগুলি ইচ্ছাকৃত।”

বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও ট্রলি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবং এটা এখানে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে… অনেকেই আমি এখন শুনলাম—আমি পরীক্ষা করতে এসেছিলাম—যে আপনার কাস্টমসের যে ক্লিয়ারেন্স দিয়ে বের হবে, সেদিকে না গিয়ে ট্রলির জায়গা দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। এবং ট্রলির যে কথা বলা হয়েছে, ট্রলি এপাশে অনেক ছিল। সে ট্রলিগুলো আনতে তো একটা সময় লাগে। একটা ফ্লাইট নামলে, বিশেষ করে দুইটা ফ্লাইট একসঙ্গে নামলে ট্রলিগুলো আনতে সময় লাগে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষের মানসিকতায় যদি থাকে যে, ঠিক আছে, আমার দেশ, আমার ভূমি, আমি সুন্দরভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে থাকব এবং সুন্দরভাবে এগুলোকে ট্যাকল করে চলব, তাহলে কিন্তু কোনো ঝামেলা নাই। আর যদি ইচ্ছাই থাকে যে আমি অযথাই একটা কিছু করব আর কি, সেটা তো অন্য ব্যাপার।’

“এবং সবচেয়ে বড় ব্যাপার হয়েছে যে আমাদের অফিসারদের, সরকারি কর্মকর্তাদের—এটা তুলে ধরার একটা প্রবণতা দেখা গেছে যে সরকারি কর্মকর্তা হয়তো কাজ করে না, এই সরকারের আমলে কাজ করছে না। এটা বিরোধী দল যারা করেন আর কি, এবং সরকারের ভালো কাজগুলোকে ঢেকে দেওয়ার জন্য একটা বিভিন্ন জায়গায় ভুল বিষয় উপস্থাপন করে করে এরকম বিব্রত করার চেষ্টা করছে।”

জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে

বিমানমন্ত্রী বলেন, “দীর্ঘদিনের ভোগান্তি তো ছিলই। আমরা ১৫ বছরের ভোগান্তিতে ছিলাম। লাস্ট ১৮ মাস ইন্টারিম পিরিয়ডেও ভোগান্তিতে ছিলাম। তারপরেও এসে শুদ্ধিকরণ করতেও তো একটা সময় লাগে।”

“তো এখন আজকে আপনি যাত্রীদের জিজ্ঞেস করেন, যে আস্তে আস্তে আগের চেয়ে ভালো হচ্ছে না খারাপ হচ্ছে? ধীরে ধীরে ভালো হচ্ছে। এবং আজকে তো খুবই ভালো, আল্লাহর রহমতে। এভাবেই তো ভালো হয়।”

তিনি বলেন, “এবং সকলকে ধৈর্য ধারণ করে এই দেশটাকে ভালোবাসবে যারা, তারা কিন্তু এই ধৈর্য ধারণ করেই এই সুন্দর সিস্টেমটাকে আস্তে আস্তে উন্নত করার জন্য সহযোগিতা করবে। আমরা দেখলাম যে এটা সহযোগিতা নয়, শুধু এখানেই নয়, বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় যখন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের জন্য কাজ করছেন—যে জনগণ যাতে এ দেশে ভালোভাবে বসবাস করতে পারে, তাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, তাদের জন্য কৃষক কার্ড, তাদের জন্য খাল কাটা, বৃক্ষরোপণ, এই আমাদের দেশকে উন্নত করার জন্য বা একটা সাফোকেশন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যে চেষ্টা, এটা যে করছে সেখানেও কিন্তু তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।”

তিনি বলেন, “তো এগুলো হলো পরিকল্পিত হতে পারে, আমার কাছে ধারণা যে এটা ইচ্ছাকৃতভাবেই আমাদের এখানে একটা মব সৃষ্টি করে, যে এয়ারপোর্টেও একটা মব হয়। এরকম একটা আমার ধারণা হলো যেটা আর কি।”

ইউরেনিয়াম আসা প্রসঙ্গে

রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ইউরেনিয়াম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিমানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ইউরেনিয়াম যাবে। সেখানে খুবই সতর্কতার সাথেই ইউরেনিয়াম আনতে হয়, এটা হেজার্ডাস। এজন্য আজকে আমাদের যারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, তারা সুন্দর নিরাপত্তার মধ্যে রেখেছে।”

তিনি বলেন, “এটা আবার যথাস্থানে যাবে—রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছা পর্যন্ত আমাদের হয়তো পুলিশ গার্ড থাকবে সুন্দরভাবে যাওয়ার জন্য। এরকম সকল ব্যবস্থায় সুন্দরভাবেই করা আছে।”

“আমি সেটা পরিলক্ষণ করলাম, আজকের পরিবেশ দেখেও দেখতে পাচ্ছেন। এরকম পরিবেশ প্রায়ই থাকে, করার চেষ্টা করছি আমরা।”

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button