বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানকে মুক্তি না দিলে ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর হুমকি

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা এবং বিমানবন্দর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর মদিনা থেকে আসা বিমানের একটি ফ্লাইটের ব্যাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাঁর সঙ্গে মারমুখী আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া বিমানবন্দরে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের লাঞ্ছিত করা ও সাধারণ যাত্রীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করা হয়। ২ অক্টোবর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় সোপর্দ করে এবং আদালত তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান।
এদিকে এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ও পোস্টের মাধ্যমে প্রবাসীদের অনেকেই বিমানবন্দরের নিয়মিত হয়রানি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। অবিলম্বে এই জামায়াত নেতার মুক্তি এবং বিমানবন্দরে প্রবাসী হয়রানি বন্ধের দাবিতে দেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধের তথা ‘রেমিট্যান্স শাটডাউন’-এর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন অনেকে।
সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার হওয়া প্রবাসীদের বড় একটি অংশ দাবি করছেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিমানবন্দরে তাঁদের বারবার ভোগান্তি ও অযাচিত হয়রানির শিকার হতে হয়। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি ও বিমানবন্দরকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা না হলে প্রাথমিকভাবে এক মাসের জন্য দেশে রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখা হতে পারে, যা প্রয়োজনে আরও দীর্ঘায়িত হবে।
প্রবাসী কর্মীদের একটি বড় অংশ ফেসবুক আইডিতে পোস্ট দিয়ে ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তি উদ্যোগে অন্তত দুই মাস রেমিট্যান্স পাঠানো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে বড় অবদান রাখা সত্ত্বেও প্রবাসীদের প্রাপ্য অধিকার ও সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। অবিলম্বে বিমানবন্দর হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ করা না হলে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
source: Azadir Dak