News

বিমানমন্ত্রীকে ৭ বার কল করার পরেও রিসিভ করেন নাই

জামায়াত এমপি সালাহউদ্দিন আইয়ুবী© সংগৃহীত ও সম্পাদিত

গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী বলেছেন, আমি মন্ত্রীকে গতকাল (শনিবার) সাতবার ফোন দিয়েছি। একবারও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আমি তাকে বলতাম, আমরা ওই দিন লবিতে এসে বসেছি। যখন লিখিত অভিযোগ করতে যাই, তখন আট-দশজন অফিসার বলেছেন, অনুগ্রহ করে আপনারা লিখিত অভিযোগ করবেন না। কারণ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাদের কয়েকজনকে বরখাস্ত করতে হবে। এটা আমাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার মধ্যে যাবে না।’

সাম্প্রতি বেসরকারি গণমাধ্যম স্টার টেলিভিশনে এক স্বাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন জামায়াত নেতা।

তিনি বলেন, ‘তখন তারা বলেছে, আমরা এটা সমাধান করব, আমাদের ওপর আস্থা রাখেন। আমরা বলেছি, যেহেতু এটা একটি জাতীয় ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। সুতরাং আমরা সেখানে একটি লিখিত ডকুমেন্ট রেখে যেতে চাই। আপনারা যদি সমাধান করেন, তাহলে আমরা বলব, আপনারা শুধু সমাধানই করেননি, আমরা আপনাদের ধন্যবাদ দিয়ে যাব এবং সব ধরনের সহযোগিতা করব।’

তিনি হাত জোড় করে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। আমি ধরে ধরে সাতটি বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছি। প্রত্যেকটি বিষয়ে তিনি স্বীকার করেছেন, এগুলো অব্যবস্থাপনা এবং আমাদের দুর্বলতা। এগুলো সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। এ ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা দরকার।’

‘পরবর্তীতে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান এসে একই কথা বলেছেন। তিনিও হাত জোড় করে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন, এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব। আপনাদের সহযোগিতা আমাদের দরকার। তিনি তার কাছ থেকে ফোন নম্বর ও বাসার ঠিকানা নিয়েছেন। বলেছেন, আপনাদের সহযোগিতা দরকার। আপনাদের সহযোগিতা এবং সরকারের সহযোগিতা নিয়ে আমরা এগুলো পরিবর্তন করব। আপনারা সহযোগিতা করবেন। এখন আবার তার (আখতারুজ্জামান) বিরুদ্ধে মামলা করার সাহসটা তারা কোথায় পেলেন?’

তিনি বলেন, ‘তারা সমাধান তো করলই না। পরের দিন মন্ত্রী গেলেন। মন্ত্রী গিয়ে সেখানে কী বললেন? ১০ মিনিটের মধ্যে সকল লাগেজ পাওয়া যায়।’

‘তারপর আমি মন্ত্রীকে গতকাল (শনিবার) সাতবার ফোন দিয়েছি। একবারও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। আমি তাকে জিজ্ঞেস করতাম, আপনি ১০ মিনিটে কীভাবে লাগেজ পেলেন? বাংলাদেশে আপনার মতো আরও ১০ জন লোক এনে দেন, যারা ১০ মিনিটে তাদের লাগেজ পেয়ে যাবে। আপনি মন্ত্রী, আপনার প্রটোকল আছে। আপনি সেই সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এমন কোনো বিমানবন্দর নেই, যেখানে ১০ মিনিটে লাগেজ পাওয়া যায়।’

এর আগে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসা থেকে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মামলার অভিযোগে বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। শনিবার আদালত তাঁকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।

গ্রেপ্তারের আগে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে বলেন, ‘যতদিন বেঁচে আছি, জনগণের জন্য সংগ্রাম করব। আমি যেন জনগণের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, বিশেষ করে প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যদি শহীদ হতে পারি।’

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button