মেডিকেল কলেজের জমি দখল করে কাঁচামালের আড়ত স্থানীয় বিএনপিনেতাদের

ঢাকার আশুলিয়া সংলগ্ন উত্তরার কামারপাড়া এলাকায় একটি প্রস্তাবিত বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জমি দখল করে কাঁচামালের আড়ত নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ার উদ্দেশ্যে রক্ষিত প্রায় ১৬৪ শতাংশের এই মূল্যবান জমি রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপটে ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থে দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালে এই ১৬৪ শতাংশ জমি ‘উত্তরা বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল’ গড়ার উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেয়। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে জমিটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় স্থানীয় বিএনপি নেতারা। প্রথমে জমিটিতে অবৈধভাবে ট্রাকস্ট্যান্ড বসিয়ে কোটি টাকার ব্যবসা ফাঁদা হয় এবং বর্তমানে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জোরেশোরে টিন ও বাঁশ দিয়ে কাঁচামালের আড়ত নির্মাণের ঘর তৈরি করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের ছত্রছায়ায় পুরো দখলের কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বর্তমানে কামারপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর অনুসারী তুরাগ থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোগীরা শুরু থেকে এই দখল প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রফিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন নামের এক প্রতিষ্ঠানের নামে মাসে ১৬ লাখ টাকা ভাড়ার চুক্তি দেখালেও, মূলত বিএনপির অভ্যন্তরীণ সমঝোতার মাধ্যমেই অবৈধভাবে আড়ত প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
স্থান পরিদর্শনে দেখা যায়, জমির দেয়াল ভেঙে ‘কাঁচামালের আড়ত, দোকান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছে। সম্প্রতি তথ্য সংগ্রহ ও ড্রোনের সাহায্যে ছবি তুলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মী ও ফটোসাংবাদিকের ওপর চড়াও হন আড়ত নির্মাণের তদারকিতে থাকা ব্যক্তিবর্গ। এমনকি জমি দখলের প্রতিবাদ করায় স্থানীয়দের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সরকারি নথিপত্রে জমিটি এখনো প্রস্তাবিত হাসপাতালের নামেই নিবন্ধিত রয়েছে। ফলে স্কুল কর্তৃপক্ষ কিংবা রাজনৈতিক নেতারা কোনোভাবেই এই জমি ভাড়ার নামে বরাদ্দ দিতে পারেন না। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের এই জমি হাসপাতাল নির্মাণের কাজে ব্যবহার না করে বিএনপি নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থে আড়ত বানিয়ে স্থায়ীভাবে দখলের যে পাঁয়তারা চলছে, তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
source: Azadir Dak