রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন বগুড়ার শাহেদ আহম্মদ ও কুমিল্লার নাসরুল্লাহ বদরপুরি। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ১১ জন প্রবাসী কর্মী এবং ১৩ জন ওমরাহযাত্রী।
নিহত শাহেদ আহম্মদের বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তিনি সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি।
অন্য নিহত নাসরুল্লাহ বদরপুরির বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামে। তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাচ্ছিলেন। রিয়াদে ট্রানজিটের সময় জেদ্দাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের সদস্যরাও নিশ্চিত করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত ২৪ বাংলাদেশিকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে হাফেজ হাসান, কাজী নুরুল্লাহ ও মো. ওমর ফারুক কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন। তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে দূতাবাস জানিয়েছে।
অন্যদিকে, নওগাঁর ওমরাহযাত্রী সাফফাত রহমান রিয়াদ মেডিকেল কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বাকি আহত ব্যক্তিদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে দূতাবাসের প্রতিনিধিরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে। সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এতে বিভিন্ন দেশের ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাংলাদেশিও রয়েছেন। হামলার জন্য ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বিমানবন্দরে আটকা পড়েন প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি
হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েন। তাদের নিরাপদে রাখা ও গন্তব্যে পৌঁছে দিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
আটকে পড়া যাত্রীদের একটি অংশের জন্য স্থানীয় হোটেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৭ জন ওমরাহযাত্রীকে বিশেষ বাসে সড়কপথে জেদ্দায় পাঠানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বাতিল হওয়া ঢাকাগামী ফ্লাইটের যাত্রীদের দেশে ফেরাতে বিকল্প ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কিছু যাত্রীকে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থলপথে বাহরাইন যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়েও কাজ করছে দূতাবাস।
হামলার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ফ্লাইট চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আটকে পড়া বাংলাদেশিদের যাত্রা, আবাসন ও চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস।
source: The Dhaka Diary