News

নগর জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রকল্পে ‘বিশেষজ্ঞ’ সাবেক আমলারা

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘ইমপ্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিসেস প্রজেক্ট’ (আইইউপিএইচপিএসপি) এ তুঘলকি কাণ্ড ঘটেছে। এই প্রকল্পের টার্মস অব রেফারেন্সের (টিওআর) শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা মিলছে না শীর্ষস্থানীয় অন্তত তিনজন বিশেষজ্ঞের, যাদের প্রত্যেকের বেতন সাড়ে চার লাখ টাকা করে।

অনুমোদিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) থাকা নিয়োগের শর্তাবলি পরিবর্তন করা হয়। নিয়োগ পাওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অন্তত তিনজন নিজেদের টিওআর তৈরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবাক করা বিষয় হলো, নিজেদের তৈরি করা যোগ্যতার মানদণ্ডও পূরণ না করেই বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন তারা।

এই প্রকল্পে আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জনের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর মধ্যে অস্তিত্বহীন বিশেষায়িত ডেঙ্গু গবেষণা ল্যাবরেটরির জন্য ১৮৬ জন এবং তিন সিটি করপোরেশন ও দুই পৌরসভা না চাইলেও মশা ও বাহক-নিয়ন্ত্রণ কাজের জন্য ৫৪ জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রকল্পের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব আমিনুল ইসলাম, এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট হয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. বিল্লাল হোসেন, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে আছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. মহঃ শের আলী ও বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট পদে আছেন হিসাবরক্ষক হিসেবে কাজ করা এনামুল হক।

বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া এই চারজনের মধ্যে তিনজন সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট। এই প্রকল্পের অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বেতনের বিস্তর ফারাক রয়েছে।

ডিপিপি ও সংশোধিত টিওআরের সঙ্গে তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট, অভিজ্ঞতার সনদ এবং অন্যান্য নথিপত্র মিলিয়ে দেখা গেছে, এই চারজন কর্মকর্তার প্রত্যেকে চার লাখ টাকা বেতনের চাকরি বাগিয়ে নিলেও শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা মিলছে না অন্তত তিনজনের।

টিওআর অনুযায়ী, মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন স্পেশালিস্ট পদে সমাজবিজ্ঞান, পরিসংখ্যান, অর্থনীতি, গণিত, ব্যবসায় প্রশাসন বা এ জাতীয় কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতাসহ উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-অর্থায়িত সরকারি খাতের উন্নয়ন প্রকল্পে সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) থেকে হিসাববিজ্ঞানে এম.কম পাস করা আমিনুলের অভিজ্ঞতার প্রমাণ হিসেবে জমা দেওয়া নথিতে মনিটরিং ও ইভ্যালুয়েশনের ক্ষেত্রে কাজ করার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট, সিনিয়র পাবলিক ফিন্যান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এবং সিনিয়র লোকাল গভর্নমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কাজ করার কথা উল্লেখ করেছেন।

টিওআর অনুযায়ী, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি; প্রশাসন, সমন্বয়, পরিবীক্ষণ ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় ১৫ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা; স্থানীয় সরকারে তিন বছরের অভিজ্ঞতা এবং নগর উন্নয়ন কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে। এই পদে নিয়োগ পাওয়া শের আলী রাবি থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রিধারী।

অনুমোদিত ডিপিপিতে থাকা নির্ধারিত অভিজ্ঞতা পরিবর্তন করে এনভায়রনমেন্ট স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া এবং এই পদে বিল্লাল হোসেনের নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিপিপি অনুযায়ী, এই পদে চাহিদাভিত্তিক উন্নয়ন কর্মসূচির পরিবেশগত দিকগুলোতে অন্তত পাঁচ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কথা। এর মধ্যে রয়েছে—এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন প্ল্যান এবং এনভায়রনমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান তৈরি ও বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হ্রাসের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞতা।

কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে পরিবেশ বিশেষজ্ঞের অন্তত ১৫ বছরের সাধারণ কাজের অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী বা সরকার-সহায়তাপুষ্ট উন্নয়ন প্রকল্পে পরিবেশ বিশেষজ্ঞ হিসেবে ছয় বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বিহেভিয়ার চেঞ্জ কমিউনিকেশন পদে মূল ডিপিপিতে নৃবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর, জনসংযোগ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিগ্রি এবং জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিসিসি ব্যবস্থাপনাসহ ১৫ বছরের সাধারণ অভিজ্ঞতা অথবা এ সংক্রান্ত গবেষণায় ১০ বছরের অভিজ্ঞতা এবং নগর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বাস্তব অভিজ্ঞতার শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির টিওআরে সমাজবিজ্ঞান, জনসংযোগ, মনোবিজ্ঞান, নৃবিজ্ঞান বা ‘অন্য যে কোনো বিষয়ে’ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চাওয়া হয়।

জীবন-বৃত্তান্ত যাচাই করে দেখা যায়, এ পদে নিয়োগ পাওয়া এনামুল ঢাকা সিটি কলেজ থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বি.কম এবং জগন্নাথ কলেজ থেকে এম.কম পাস করা। বিসিসি ব্যবস্থাপনা বা এ সংক্রান্ত গবেষণায় তার ১০ বছরের অভিজ্ঞতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি হিসাবরক্ষক, অর্থ ও প্রশাসন সমন্বয়কারী, ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং স্পেশালিস্ট, ফিন্যান্স ম্যানেজার, আঞ্চলিক অর্থ সমন্বয়কারী, ফিন্যান্স অ্যাসোসিয়েট (অডিট) হিসেবে কাজ করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। গত ২৯ জুন তাকে প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটি ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। ১২ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং তারা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পে যোগদান করেন। অভিযোগ উঠেছে, আমিনুল, এনামুল ও শের আলী টিওআরের খসড়া তৈরি, মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং বিশেষজ্ঞ বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক নিয়োগ পাওয়ার আগেই তারা প্রকল্পের কার্যালয়ে বসে কাজ করতেন এবং নিয়োগ সংক্রান্ত নথিপত্র তৈরিতে সাহায্য করেন।

একান্ত আলাপচারিতায় প্রকল্পটির শুরুর দিকের কথা জানতে চাইলে এনামুল আমার দেশকে বলেন, শের আলী অতিরিক্ত সচিব থাকার সময় একদিন আমাকে জানান, একেবারে শেষ পর্যায়ে থাকা একটি জনস্বাস্থ্য প্রকল্প আছে। তিনি পরিকল্পনা বিভাগ থেকে প্রকল্পের ফাইল নিয়ে আসেন এবং সেটি নিয়ে কাজ করতে বলেন। তিনি ও আমি মিলে সব কাজ করেছি। আমরা টিওআর তৈরি, কমিটি গঠন এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পটি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়ায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শের আলী। তিনি আমার দেশকে বলেন, আমি প্রকল্পের জন্য ঋণ নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচক দলের সদস্য ছিলাম। বড় কোনো প্রকল্পের পরিচালনাও করেননি বলে জানান। তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকাবস্থায় এ প্রকল্পের দেখভাল করেছেন। বিভিন্ন সভায়ও তাকে দেখা গেছে। বিষয়টি স্বার্থের দ্বন্দ্ব কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।

আমিনুল, বিল্লাল, শের আলী ও এনামুলের বেতনের অংকও অভিন্ন। প্রকল্পের নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে চার লাখ টাকার মধ্যে চারজনেরই বেতন চার লাখ ৪৪ হাজার টাকা করে। তাদের পাশাপাশি এই প্রকল্পের শীর্ষ ১২ কর্মকর্তার মধ্যে আরো দুজনের বেতন একই অংকের- চার লাখ ৪৪ হাজার টাকা করে। ওই দুজন হলেন— ফিনান্সিয়াল স্পেশালিস্ট এস এম আব্দুল মোত্তালিব ও পাবলিক হেলথ স্পেশালিস্ট ড. শারমিন মিজান।

তবে আমিনুল, বিল্লাল ও শের আলী আমার দেশ-এর কাছে দাবি করেন, তাদের নিয়োগ ঠিকঠাক আছে, কোনো সমস্যা নেই। তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তারা চাকরি পেয়েছেন। এনামুলও একই ধরনের দাবি করেন।

নিয়োগের সময় দায়িত্বে থাকা প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পরামর্শ ও তাদের অনুমোদনক্রমে টার্মস অব রেফারেন্স পরিবর্তন করা হয়েছে। কারণ প্রাথমিকভাবে প্রণীত টিওআর প্রকল্পের প্রত্যাশিত চাহিদা পূরণ করতে পারছিল না।

এ প্রকল্পের প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ নিয়োগের সময় বিশ্বব্যাংক জীবনবৃত্তান্ত পরীক্ষা করে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করেছে। কিন্তু বাকি ১১ জন বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বিষয়টি নিরীক্ষার কথা গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে ইমেইল করে জানানো হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। প্রকল্পের চুক্তিগুলো ও কেনাকাটাও পোস্ট রিভিউ করা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্পটির জন্য বিশ্বব্যাংকের টাস্ক টিম লিডার ইফফাত মাহমুদ ইমেইলের মাধ্যমে জানান, প্রকল্পের জনবল নিয়োগের দায়িত্ব বাস্তবায়নকারী সংস্থার। এ নিয়োগ অবশ্যই সরকারি বিধিবিধান এবং প্রকল্পের সম্মত ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করে করতে হবে। বড় অঙ্কের চুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের তদারকির আওতায় রয়েছে পূর্বানুমোদনভিত্তিক পর্যালোচনা এবং নমুনাভিত্তিক চুক্তির পরবর্তী পর্যালোচনা ।

তিনি আরো জানান, জালিয়াতি ও দুর্নীতির সব অভিযোগকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রকল্পে সম্ভাব্য অনিয়ম বা অসদাচরণ সম্পর্কে কারো কাছে তথ্য থাকলে তা বিশ্বব্যাংকের ইন্টেগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সিতে জানাতে পারে। সংস্থাটি স্বাধীনভাবে ও গোপনীয়তার সঙ্গে এসব অভিযোগ তদন্ত করে।

অস্তিত্বহীন ল্যাবের জন্য ২৪০ জন নিয়োগ

প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য ডেঙ্গুর বাহক মশা নিয়ে গবেষণা করা। এ প্রকল্পে ২৮ কোটি ৭২ লাখ টাকার আউটসোর্সিং চুক্তির মাধ্যমে ২৪০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রেড ৬-২০ পর্যন্ত বেতনের এসব কর্মী সরবরাহের জন্য গত বছরের ২২ জুন টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, ২৪০ জনের মধ্যে ১৮৬টি পদ প্রস্তাবিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ভেক্টর ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ ল্যাবরেটরি’র সঙ্গে যুক্ত। বাকি ৫৪ জন বাহক-নিয়ন্ত্রণ কর্মীকে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং সাভার ও নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় কাজ করার কথা। এর মধ্যে ১৫৮ জন গত জুলাইয়ে যোগদান করেছেন এবং বাকি ৮২ জন শিগগিরই যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। বিশেষায়িত পদগুলোতে নিয়োগ পাওয়া অনেকের মশা নিয়ন্ত্রণ বা বাহক ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

ল্যাবরেটরির নির্মাণ কাজের টেন্ডার প্রকাশ করা হয় ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সেটি খোলা হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কার্যাদেশ জারি করা হয়নি। এছাড়া ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের জন্য এখনো কোনো টেন্ডারই আহ্বান করা হয়নি।

দুই বছরের জন্য তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং প্রকল্পের প্রধান কার্যালয়ে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। তবে ল্যাবরেটরি চালুর আগেই তাদের অনেকের চাকরির মেয়াদের একটি বড় অংশ কিংবা পুরো মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কারণ প্রকল্পটি শেষ হচ্ছে ২০২৮ সালের জুনে।

মশা ও বাহক-নিয়ন্ত্রণ কাজের জন্য ৫৪ জন নিয়োগের বিষয়ে একাধিক সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব জনবল অতিরিক্ত, যা তারা চাননি। মশা নিয়ন্ত্রণে অভিজ্ঞতা না থাকায় কর্মীদের উপযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

২৪০ জন নিয়োগের দরপত্র আহ্বান এবং চুক্তিতে সই করেন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্‌ খান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, টিএমসিও বিল্ডিংয়ের ভার্টিক্যাল এক্সটেনশনের জন্য আরডিপিপি তৈরি ও নতুন করে কস্ট এস্টিমেট প্রণয়নে সময় লেগেছে। ভবনের স্ট্রাকচারাল ডকুমেন্ট সংগ্রহ এবং বিশ্বব্যাংকের আপত্তির পর এলজিইডির সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ এগিয়ে নিতে হয়েছে। এছাড়া প্রকল্পের শতাধিক ইকোনমিক কোডে ভুল থাকায় পুরো ডিপিপি সংশোধন করতে হয়েছে, যার ফলে বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। ল্যাবরেটরির কর্মীরা বর্তমানে আইসিটি টিমের সঙ্গে যন্ত্রপাতি প্রস্তুতের কাজ করছেন। ভবন নির্মাণের টেন্ডার ওপেনিং সম্পন্ন হয়েছে; মূল কাজ শুরু হলে পরবর্তী কার্যক্রম এগোবে।

নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২৪০ জন কর্মীর সবাইকে সরাসরি রিক্রুট করা হয়নি। তাদের একটি অংশকে তিনটি সিটি ও দুটি পৌরসভায় পদায়ন করা হয়েছে। ১০০ জনের বেশি কর্মীর একটি অংশকে প্রশিক্ষণ শেষে যোগদান করতে বলা হয়েছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button