News

হোটেল-বারে অনিয়ম, ঢাকায় ৬৯০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫

রাজধানীর অভিজাত হোটেল ও বারে অনিয়মের খোঁজে অভিযান চালিয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। হোটেল আমারিতে পারমিট ছাড়া মদ্যপানের সময় সাতজনকে পাওয়া গেছে। কিংফিশার বারে মিলেছে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১৪ লিটার বিলাতি মদ।

অন্যদিকে, ঢাকায় পৃথক অভিযানে ৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়।

আজ বুধবার অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের এক অভিযানে হোটেল আমারি, কিংফিশার বার ও ব্লিজ আর্ট বারে তল্লাশি চালানো হয়। এর আগে ১২ ও ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়।

হোটেল-বারে নানা অনিয়ম

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের উপপরিচালক রাজিউর রহমান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে হোটেল আমারি, কিংফিশার বার ও ব্লিজ আর্ট বারে অভিযান চালানো হয়। এ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্সের শর্ত ও আইনগত বৈধতা যাচাই করা হয়।

গুলশানের হোটেল আমারিতে পারমিট ছাড়া মদ্যপানের সময় সাতজনকে পাওয়া যায়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। কিংফিশার বারে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ১৪ লিটার বিলাতি মদ পাওয়া যায়। এ ঘটনায়ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অভিযানকালে ব্লিজ আর্ট বার বন্ধ পাওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ও সম্ভাব্য অনিয়ম যাচাই করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।

এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ১৫(১) ধারায় প্রযোজ্য ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধ ও লাইসেন্সের শর্ত প্রতিপালন নিশ্চিত করতে তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

কক্সবাজার-টেকনাফ থেকে ঢাকায় ইয়াবা

অন্যদিকে, ডিএনসির বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের ধারাবাহিক অভিযানে ৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মাদক পরিবহন ও ব্যবসায় ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে।

উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মতিঝিল থানার আরামবাগে সোহাগ বাস কাউন্টারের সামনে অভিযান চালিয়ে আবদুর রহিম (৬২) ও ফোরকান মাহমুদ (৩২) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বহন করা ব্যাগ তল্লাশি করে ১ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানান, কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে এনেছিলেন।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কদমতলী থানার স্মৃতিধারা, ২৪ ফুট, ২ নম্বর রোডের জিয়া সরণি এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সাইফুল ইসলাম বাবু (৩২) নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বসতঘরের আলমারির গোপন ড্রয়ারে রাখা একটি ব্যাগ থেকে ২ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল টেকনাফ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকার বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে বিক্রির কথা জানিয়েছেন বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

মেহেদী হাসান আরও জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বনানী থানার মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকায় কন্তুরী রেস্টুরেন্টের সামনে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইলগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. লিটন মিয়া (৩৫) ও মো. আবদুল আজিজ (৩৯) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন মাদক কারবারির কাছে সরবরাহের করে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

সব মিলিয়ে এসব অভিযানে ৬ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মাদক সংগ্রহ, পরিবহন, মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে আরও তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়েরের জন্য এজাহার দাখিল করা হয়েছে। উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামত অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button