৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ঢাবির সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

৪৫তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল শাখার নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী মোসাঃ শাহরিয়ার সুলতানা (নদী)। এ খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে শাহরিয়ার সুলতানা কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে প্রকাশিত গেজেটে পুলিশ ক্যাডারে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন নদী
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জন্য ছাত্রলীগের প্যানেল ঘোষণা করেন সংগঠনটির তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। ওই প্যানেলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ইসরাত জাহান ইভা এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শাহরিয়ার সুলতানা নদীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল।
প্যানেল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।
নিয়োগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক
পুলিশ প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বিভাগে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রীর নিয়োগের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী মনিরা শারমিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি লেখেন, “কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদে ছাত্রলীগের প্যানেল থেকে জিএস পদে নির্বাচন করা শাহরিয়ার সুলতানা নদী ৪৫তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত! ২০১৯ সালের ডাকসু ইলেকশনে আমার কাছে হারছিল।”
মনিরা শারমিন আরও লেখেন, “লাইব্রেরিতে দিন-রাত এক করে পড়ে থাকা ভাই-বোনেরা গেজেট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পদধারী নেতা আমার দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন?”
নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সরকারের কাছে জানতে চান, প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কী ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। নিয়োগে তদবিরের কোনো প্রভাব ছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নির্বাচনে ভোটের ব্যবধান ছিল ২২১
২০১৯ সালের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শাহরিয়ার সুলতানা নদী পেয়েছিলেন ৯১১ ভোট। অন্যদিকে, ১ হাজার ১৩২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন মনিরা শারমিন।
শাহরিয়ার সুলতানার পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির খবরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, প্রার্থীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
source: Azadir Dak