ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা হেফাজতে ইসলামের

সম্প্রতি ট্রান্সজেন্ডার মতাদর্শের প্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানান।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে শীর্ষ এই উলামায়ে কেরাম বলেন, ইসলামি আকিদা ও শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নারী ও পুরুষের সৃষ্টিগত পরিচয় মহান আল্লাহর সুনির্দিষ্ট কুদরত। মানুষের জন্মগত লৈঙ্গিক পরিচয় ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যকে অস্বীকার করে বিকৃত লিঙ্গপরিচয়ের মতাদর্শকে বৈধতা দেওয়া এবং এর প্রচার-প্রসার চালানো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের ইমান, আকিদা, সামাজিক সংস্কৃতি ও মৌলিক নৈতিকতার পরিপন্থি।
নেতারা কণ্ঠে বলেন, ইসলাম সব মানুষের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকারের সুদৃঢ় নিশ্চয়তা প্রদান করে। তবে মানবিক মর্যাদা রক্ষার নামে ধর্মীয় শরিয়ত ও আসমানি বিধানের বিরোধী কোনো ভ্রান্ত মতবাদ সমাজে চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা বরদাশত করা যায় না।
শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারা বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা হলো একটি জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র ও নৈতিকতা গঠনের মূল স্তম্ভ। দেশের ৯০ ভাগ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সুস্থ পারিবারিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে—এমন কোনো ধ্বংসাত্মক ধারণার বীজ শিক্ষাব্যবস্থায় বপন করা উচিত নয়। বরং শিক্ষাব্যবস্থাকে নিখাদ নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসনের বিকাশে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, জনগণের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন সরকারের দায়িত্ব। শিক্ষামন্ত্রীর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তির কাছ থেকে এ ধরনের বক্তব্য কাম্য নয়। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে—এমন অবস্থান থেকে তাকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
হেফাজতে ইসলামের আমির ও মহাসচিব অবিলম্বে শিক্ষামন্ত্রীকে তার এই বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির সামনে অবস্থান স্পষ্ট করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তাঁরা।
source: Daily Amar Desh