Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Uncategorized

এক সমাবর্তনে কুবির দুই দশক পার, ‘দায়সারা’ উদ্যোগেই থমকে আছে দ্বিতীয়টি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনে© প্রতিনিধি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এই দীর্ঘ্য সময়ে সমাবর্তন হয়েছে মাত্র একবার। বিভিন্ন সময়ে দ্বিতীয় সমাবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রথম সমাবর্তনের পর থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী স্নাতক সম্পন্ন করলেও পাননি আনুষ্ঠানিক সনদ গ্রহণের সুযোগ। দীর্ঘদিন ধরে সমাবর্তন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন কুবি থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি কুবির প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম থেকে সপ্তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা সনদ গ্রহণ করেছিল। এরপর ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দ্বিতীয় সমাবর্তনের উদ্যোগ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলীর সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় ও উপ-কমিটির যৌথ সভায় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সমাবর্তন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত আর বাস্তবায়ন হয়নি।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর। তবে প্রধান অতিথি নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের কারণে শেষ পর্যন্ত সেই আয়োজনও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয় লোক প্রশাসন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো: আবদুল্লাহিল মারুফ বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ্য সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তনের ঘোষণা একাধিকবার এলেও বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সমাবর্তন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, এটি একজন শিক্ষার্থীর দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের স্বীকৃতি ও স্মরণীয় অর্জনের প্রতীক। অনেক শিক্ষার্থী অনার্স-মাস্টার্স সম্পন্ন করে কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, এমনকি দেশের বাইরে চলে গেছেন, কিন্তু এখনও সেই কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।

আইন বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তনের ঘোষণা ও প্রস্তুতির কথা একাধিকবার জানানো হলেও নানা কারণে তা বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ শিক্ষাজীবনের অর্জনের স্বীকৃতি এবং স্মরণীয় একটি মুহূর্ত।

তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে সমাবর্তন আয়োজন না হওয়ায় অনেক গ্র্যাজুয়েট তাদের কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা সমাবর্তনের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক, যাতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য সম্মান যথাসময়ে লাভ করতে পারে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, দ্বিতীয় সমাবর্তন আয়োজনের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। মন্ত্রণালয় থেকে যাঁকে প্রধান অতিথি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি ছিল। শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টাকে প্রধান অতিথি হিসেবে চেয়েছিল। কিন্তু তখন সেটি সম্ভব হয়নি। ফলে সমাবর্তন আয়োজনও করা যায়নি।

পরবর্তী সমাবর্তন কবে হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাবর্তন প্রতিবছরই হওয়া উচিত। আমি আশা করি, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।

উল্লেখ্য, সমাবর্তন হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা অন্যান্য ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রথম সমাবর্তনে প্রথম থেকে সপ্তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৮৮৭ জন শিক্ষার্থীকে সনদ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া ১৪ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর স্বর্ণপদক দেওয়া হয়।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button