News

ছয় মাসে ২৩০০ একরের বেশি বনভূমি উদ্ধার ও বনায়ন করেছে সরকার : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম© প্রতিনিধি

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল পর্যন্ত ছয় মাস আমাদের পূর্ণ হয়েছে। আমরা ছয় মাসে ২৩০০ একরের বেশি জায়গা আমরা উদ্ধার করেছি এবং বনায়ন করেছি। কোথাও ২০০, ৩০০ একর করে আছে, আপনারা কেউ চাইলে আমার কাছে দেখতে পারেন সেই তথ্যগুলো আছে। আমি মনে করি এটা আমাদের একটা বড় সাফল্য। যে আমরা ২০০০ এর বেশি জায়গা, ২৩০০ একরের বেশি জায়গা আমরা উদ্ধার করেছি এবং সেখানে প্ল্যান্টেশন করেছি। একইসঙ্গে বনভূমি দখল ও পরিবেশ দূষণ রোধে সরকার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) বিকেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে পরিবেশবান্ধব কর্মসূচির সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে জীববৈচিত্র্য আছে সেগুলো সুন্দর করা, আমাদের প্লাস্টিক দূষণ কমিয়ে আনা এই ধরণের কাজ করছি। গত ১৫ দিনে আমার মনে হয় পরিবেশ নিয়ে চার-পাঁচটা মিটিং এ অংশগ্রহণ করেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। তার ভেতরে একটা তো অবশ্যই আমাদের ছিল ইটভাটা নিয়ে, সেতু দূষণ নিয়ে। তারপর আরেকটা ছিল এই পানি দূষণ নিয়ে বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ, বালু সহ যে নদীগুলো দূষিত হচ্ছে সেগুলো নিয়ে। তারপর প্লাস্টিক যে বর্জ্য ব্যবস্থা সেটা নিয়ে এবং আমাদের সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিয়ে বা পলিথিন নিয়ে আমাদের যে অভিযান সেগুলো নিয়ে। তো প্রতিনিয়ত আমরা এগুলো নিয়ে কাজ করছি কিন্তু এবং আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছি। লোক দেখানোর জন্য বা শুধু আনুষ্ঠানিকতার জন্য নয়।

তিনি বলেন, আমরা একটা ঘোষণা দিয়েছি যে কাঠ পুড়িয়ে যে ইটভাটায় যে সনাতন পদ্ধতি এখনো কয়েকশো আছে বাংলাদেশে, এই সিজনের পর নতুন সিজনে আমরা সেগুলোকে আর চালাতে দিব না। আমরা এটাকে একটা ফার্স্ট স্টেপ মনে করি, যেটাতে আমরা অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারবো দূষণ, যদি আমরা কাঠ পোড়ানো বন্ধ করতে পারি। তারপর যেগুলো অবৈধ ইটভাটা আছে সেগুলোর সংখ্যাও অনেক। তো সেগুলো নিয়ে আমাদের কাজ হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনে যদি আপনারা দেখেন, সুন্দরবনে গত ২২ বছরে ২৭ বার আগুন লাগছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে, যেহেতু আমি সুন্দরবন এলাকার মানুষ, আমি জানি কোথায় আগুন লাগে কীভাবে লাগে। আমরা গাইডলাইন দিয়েছি, এ বছর বন বিভাগ দায়িত্ব পালন করেছে, এবার কোনো আগুন লাগেনি। আমাদের ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আমরা সুন্দরবনে সেই আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।

সেন্টমার্টিন নিয়ে তিনি বলেন, আমি সেন্টমার্টিন গিয়েছিলাম ওখানকার জীববৈচিত্র্য দেখার জন্য, বা কি অবস্থা আছে, আগামীতে আমরা কি করতে পারি। তো ওখানকার যেহেতু এটা কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে, তাদেরকে আমি পরিষ্কার করে নির্দেশ দিয়েছি যে আগামীতে সেন্টমার্টিনে কোনো জাহাজে করে প্লাস্টিক বর্জ্য যাবে না।এবং সেটাকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করবো। 

তিনি বলেন, আমার যে গাছ লাগানো হয়েছে, আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে আমরা সত্যি কার অর্থে আগামীতে ২৫ কোটি নয় আরো বেশি গাছ লাগাতে পারবো। কারণ এ বছর ইতিমধ্যেই আমরা ২ কোটি ৮৪ লাখের মতো গাছ লাগিয়েছি। আপনারা হয়তো পত্র-পত্রিকায় দেখেন যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি অমুক জায়গায় ৫ হাজার, ১০ হাজার গাছ লেগেছে। অনেস্টলি বলছি, এইগুলো সামাজিক আন্দোলন। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তিনি বলেন, আমি সবাইকে বলবো বিশেষ করে এই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের একটা সুশৃঙ্খল বিশ্ববিদ্যালয়। হয়তো রাজনৈতিক বিভিন্ন উত্থান-পতন বিভিন্ন জায়গায় অনেক কিছু চেঞ্জ হয়েছে, বাট স্টিল এখানকার যে গ্রিনারি আছে, এখানকার যে ন্যাচারাল বিউটি আছে, আমি মনে করি এখনো এটা একটা সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য নিয়ে একটা জায়গা আছে। সেই শীতের সময় যে পাখিগুলো আসে, অতিথি পাখি, এখানকার যে কোলাহল, সবকিছু মিলে চমৎকার একটা জায়গা। তো আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করবো যে আপনারা এ ব্যাপারটা খেয়াল করবেন। ক্যাম্পাসকে যদি আপনারা পলিথিনমুক্ত করতে পারেন, তাহলে তা অন্যদের জন্য অনুকরণীয় হবে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা, পরিবেশ অধিদপ্তর প্রকল্প পরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন, UNIDO বাংলাদেশের জাতীয় প্রকল্প সমন্বয়কারী সত্য ভট্টাচার্য, UNIDO বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ আলমগীর হোসাইন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, জাকসু নেতৃবৃন্দ, ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

source: The Dhaka Diary

Leave a Reply

Back to top button