News

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণে তৈরি হচ্ছে জাতীয় কাঠামো

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে যে ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা নিরূপণে একটি প্রমিত ও প্রমাণভিত্তিক জাতীয় কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বাস্তুচ্যুতির মতো অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতিরও হিসাব করা হবে।

এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটোরিয়ামে একটি মধ্যবর্তী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর কারিগরি সহযোগিতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।

‘ফরমুলেশন অব আ ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর লস অ্যান্ড ড্যামেজ অব বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও উইং চিফ (জাতিসংঘ) এ কে এম সোহেল এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান।

কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন) মির্জা শওকত আলী। পরে (সিইজিআইএস)-এর নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোতালেব হোসেন সরকার প্রস্তাবিত জাতীয় কাঠামো সম্পর্কে ধারণা দেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ সরকারের। সিইজিআইএস এখানে কারিগরি পরামর্শক হিসেবে কাজ করছে। বিদ্যমান জ্ঞান, তথ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ভিত্তিতে কাঠামোটি তৈরি করা হচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাহমুদ হোসেন ‘বাংলাদেশে লস অ্যান্ড ড্যামেজের সার্বিক প্রেক্ষাপট’ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা দেন। এতে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, অগ্রগতি এবং জাতীয় পর্যায়ে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী রওনাকুল ইসলাম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দেশীয় সম্পদ থেকে এ ধরনের গবেষণায় অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

এ কে এম সোহেল আন্তর্জাতিক লস অ্যান্ড ড্যামেজ অর্থায়ন কাঠামোর সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জাতীয় সম্পদের তালিকা তৈরি, খাতভিত্তিক মালিকানা নিশ্চিত করা এবং অর্থায়ন কৌশল তৈরিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রধান অতিথি মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়নে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য উপাত্ত ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় প্রয়োজন। এ জন্য তৃণমূল পর্যায়ের তথ্যঘাটতি দূর করার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তিনি লস অ্যান্ড ড্যামেজের সঙ্গে কার্বন বাজারের সংযোগ আরো জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজের (এফআরএলডি) পরিচালন স্তম্ভ এবং তহবিল পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারি মালিকানা ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

কর্মশালার কারিগরি অধিবেশনে ‘ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর লস অ্যান্ড ড্যামেজ অব বাংলাদেশ’ বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী উপস্থাপনা দেন (সিইজিআইএস)-এর জলবায়ু ও পানি বিশেষজ্ঞ রিয়াসাত আমিন। পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, সুশীল সমাজ ও অন্যান্য অংশীজনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্যানেল ও উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

এত দিন প্রমিত পদ্ধতি ছিল না

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাংলাদেশে এত দিন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কোনো প্রমিত জাতীয় পদ্ধতি ছিল না। ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি জীবিকা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বাস্তুচ্যুতির মতো অ-অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির বড় একটি অংশ হিসাবের বাইরে থেকে যেত।

প্রস্তাবিত জাতীয় কাঠামো এই ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ, বিজ্ঞানভিত্তিক ও তুলনাযোগ্য চিত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, কাঠামোটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় পরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দ আরো প্রমাণভিত্তিক হবে। দুর্যোগের পর পুনরুদ্ধার কার্যক্রমেও এর তথ্য ব্যবহার করা যাবে।

একই সঙ্গে ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজসহ (এফআরএলডি) আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে বাংলাদেশের ন্যায্য অংশ দাবি করার ক্ষেত্রেও এই কাঠামো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি তৈরি করবে।

এএম

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button