চবিতে পাঁচ দফা দাবিতে ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন

শতভাগ আবাসন নিশ্চিতকরণ, আবাসন ভাতা চালু, মেধার ভিত্তিতে অটোমেশন পদ্ধতিতে হলের সিট বণ্টন, পরিবহন ব্যবস্থার সংস্কার এবং পরবর্তী চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের চবি শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ খালেদ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সম্পাদক সাইদ বিন হাবিবসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক পরও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হয়নি। তাদের দাবি, বর্তমানে ২০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী হলে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন এবং ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের আশপাশের কটেজ, মেস ও শহরে বাড়তি খরচে বসবাস করছেন।
তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে প্রশাসনকে আগামী তিন দিনের মধ্যে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। একই সঙ্গে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালুর দাবি জানান তারা।
হলের সিট বণ্টনে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুপারিশের অভিযোগ তুলে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, সিট বণ্টন সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও মেধাভিত্তিক প্রক্রিয়ায় করতে হবে। তাদের অভিযোগ, সম্প্রতি কয়েকটি হলে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সুবিধা দিতে প্রশাসনিক সুপারিশের মাধ্যমে সিট বরাদ্দের তথ্য সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হলের সিট দখলের অপচেষ্টার অভিযোগও তোলেন তারা। তাদের দাবি, কোনো শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে বা তিনি নিয়মিত শিক্ষার্থী না থাকলে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তার জন্য আবাসিক সিট ধরে রাখার সুযোগ থাকা উচিত নয়। হলকে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী পুনর্বাসনের জায়গা হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানান তারা।
সোহরাওয়ার্দী হলের সদ্য পদত্যাগকারী প্রভোস্টকে ছাত্রদলের এক নেতার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রশিবির নেতারা ঘটনার তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে হলের সিট বণ্টনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা এবং তা না হলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের ঘটনা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পরিবহন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, আবাসন সংকটের কারণে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বসবাস করতে হয়। ফলে তাদের জন্য নিরাপদ ও পর্যাপ্ত পরিবহন নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। শাটল ট্রেনের বগি ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় রুটে বাস বাড়ানো, সময়সূচিতে শৃঙ্খলা আনা এবং প্রয়োজনে ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তারা।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের নির্দিষ্ট তফসিল ও রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, শতভাগ আবাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আবাসন ভাতা চালু করা, পরিবহন ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার, অটোমেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার সঙ্গে মেধার ভিত্তিতে হলের সিট বণ্টন এবং অবিলম্বে চাকসু ও সিনেট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা।
ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের বারবার আন্দোলনে নামতে হবে এমন পরিস্থিতি তারা চান না। প্রশাসন নিজ দায়িত্বে শিক্ষার্থীদের আবাসন, পরিবহন ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
source: Barta Bazar