টঙ্গীতে শিশু নিপীড়ন মামলা, সিসিটিভি ফুটেজসহ তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করছে পুলিশ

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে রবিবার (২৫ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলেই মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রবিবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে এসব তথ্য জানান।
ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, ‘মামলা হওয়ার পর থেকেই তদন্ত চলছে। আজও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলেই চার্জশিট দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার ভুক্তভোগী আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। এতে তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হয়েছে। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলেই চার্জশিট দেওয়া সম্ভব হবে। আশা করছি, খুব শিগগিরই চার্জশিট দিতে পারব।’
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীর সফিউদ্দিন রোডের মধ্য আউচপাড়ার অভিযান-১৯৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় গত ২১ অক্টোবর প্রথম শ্রেণির এক শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আহমদকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশু আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এরপর রবিবার আসামিপক্ষ থেকে আবারও জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এদিকে, মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর করা পৃথক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একদল লোক মাদরাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। ওই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত করছে পুলিশ।
নিজের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সাংবাদিকদের বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আইনিভাবে মামলাটি মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ে নিপীড়িত হয়েছে। আমি বিচার চাই।’ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, রবিবার দুপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার তদন্ত চলছে, পুলিশ আছে। এখন কথা বলা সম্ভব নয়।’
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত শেষ করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের প্রস্তুতি চলছে।
source: The Daily Campus