News

গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম

গঙ্গার পানি বাংলাদেশে না এলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের নদীতে পানি না এলে কোনো করিডর বা ট্রানজিট হবে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে আবারও ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চের জন্য প্রস্তুত থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১ নভেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘যদি বাংলাদেশে পানি না আসে, তাহলে ভারতীয় পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না। যদি বাংলাদেশে পানি না আসে তাহলে কোনো করিডর হবে না। কোনো ট্রানজিট হবে না। যদি বাংলাদেশের নদীতে পানি না আসে তাহলে ভারতীয় কোনো চ্যানেল বাংলাদেশে চলবে না। মাওলানা ভাসানীর ইতিহাসকে স্মরণ করতে চাই, তিনি ঐতিহাসিক ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। ইনশাআল্লাহ, যদি এরকম কিছু হয় আমরা আবারও লংমার্চের জন্য প্রস্তুত আছি।’

সরকারের ঋণ সংগ্রহের প্রচেষ্টা ও মাতারবাড়ী প্রকল্পে জাপানের সঙ্গে চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপি আহ্বায়ক। তিনি বলেন, সরকার এখন বিভিন্ন দুয়ারে দুয়ারে ঋণের জন্য ঘুরছে। কিন্তু সরকারকে কেউ বিশ্বাসও করছে না, ঋণ দিচ্ছে না।

জাপানকে বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, জাপান অতীতেও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু মাতারবাড়ী প্রকল্প নিয়ে সরকার জাপানের সঙ্গে কী কী চুক্তি করছে, তা জনগণের সামনে স্পষ্ট করতে হবে। কোনো ধরনের ধোঁয়াশা রাখা যাবে না।

তিনি বলেন, ‘সংসদে আলোচনা ব্যতীত আমরা বাংলাদেশে কোনো জাতীয় চুক্তি পাস করতে দেব না। এই চুক্তিতে ভারতকে কোনো ধরনের অবৈধ করিডরের ট্রানজিটের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এটা বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে, ইনশাআল্লাহ।’

সংবিধান সংস্কার নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ মতামত চেয়েছেন। তবে তার কাছে মতামত দেওয়ার কিছু নেই। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘সালাহউদ্দিন সাহেবের কাছে আমাদের কোনো মতামত দেওয়ার কিছু নাই। উনি কে মতামত চাওয়ার।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিরোধী দলকে আলোচনার জন্য ডাকা হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের আগেই এ বিষয়ে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে আলোচনার কিছু নেই, এখন বাস্তবায়নের সময়। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এর ব্যতিক্রম কিছু হলে বাংলাদেশের জনগণ, বিরোধী দল, তরুণ প্রজন্ম ও শ্রমিকেরা তা মেনে নেবে না।

শ্রমিকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, শ্রমিকেরা ন্যায্য মজুরির দাবিতে আন্দোলন করছেন। সরকার সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বাড়িয়েছে, কিন্তু শ্রমিক ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়েনি। এই বৈষম্য মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এতে সভাপতিত্ব করেন যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন যুবশক্তির সদস্যসচিব ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল।

source: The Daily Campus

Leave a Reply

Back to top button