কিশোরীকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগে কবিরাজ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কবিরাজি চিকিৎসা নিতে আসা এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে তাইজুল ইসলাম মুসা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৮)। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলা শহরের চৌরাস্তা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে কলাপাড়া থানায় সোপর্দ করেন এসআরবি-৮-এর সদস্যরা।
অভিযুক্ত মুসা উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজ্জাক মোল্লার ছেলে। স্থানীয়ভাবে তিনি মুসা কবিরাজ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কবিরাজি চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থতার কারণে কবিরাজি চিকিৎসা নিতে পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে মুসার সঙ্গে যোগাযোগ করেন কিশোরীর মা। চিকিৎসার জন্য মুসা প্রায়ই তাঁদের বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে কিশোরীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
কিশোরী তার মা ও মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে কলাপাড়া শহরের মদিনাবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। গত ২ অক্টোবর রাতে কিশোরীর মায়ের দ্বিতীয় স্বামী বাসায় ছিলেন না। ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে মুসা ১০ থেকে ১১ জনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় যান। এ সময় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মুসা কিশোরীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা ঘটনার ভিডিও মুঠোফোনে ধারণ করেন।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে একাধিক দিন কিশোরীকে ধর্ষণ করে গোপনে ভিডিও ধারণ করেন মুসা। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় কিশোরীর মায়ের অজান্তে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হয়।
একপর্যায়ে কিশোরীকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান মুসা। বিয়ের জন্য চাপ দিলে তাঁর সহযোগীরা ধারণ করা ভিডিও কিশোরী ও তার মায়ের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। পাশাপাশি ভিডিওগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁদের ব্ল্যাকমেইল করতে থাকেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার মুসাকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
source: The Daily Campus