News

‘ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে আবদুল আল-সাইয়েদের এই জয় নতুন রাজনীতির বার্তা’

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে দেশটির ইতিহাসের প্রথম মুসলিম আমেরিকান সিনেটর হিসেবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল আল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মন্তব্য করেছেন, পশ্চিমা বিশ্বে তীব্র ইসলামবিদ্বেষ ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে চলা নোংরা প্রচারণার বিপরীতে আল-সাইয়েদের নীতিভিত্তিক রাজনীতির এই ঐতিহাসিক জয় বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবদুল আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটদের এই অভাবনীয় সাফল্যের ওপর নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

ডাকসু ভিপি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে আবদুলের অভূতপূর্ব রাজনৈতিক যাত্রা আমি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছি এবং এটি সত্যিই তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। নাইন-ইলেভেনের (১১ সেপ্টেম্বর) পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বে একজন মুসলিম হিসেবে আত্মপরিচয় নিয়ে বসবাস করা এবং প্রকাশ্য রাজনীতি বা নাগরিক জীবনে সক্রিয় হওয়া চরম প্রতিকূল এক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছিল।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের ঢাবির সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শ্রদ্ধেয় শিক্ষক (যিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নোংরা রাজনীতির কারণে বর্তমানে আর শিক্ষকতায় নেই) যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর শেষ করে ফিরে এসে নিজের প্রিয় শ্রেণিকক্ষে নাইন-ইলেভেনের প্রভাব বর্ণনা করেছিলেন এভাবে—‘যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর আপনার নামের সাথে যদি মুহাম্মদ শব্দটি থাকে, তবে আপনি এক মুহূর্তেই অনুধাবন করতে পারবেন নাইন-ইলেভেন কী এবং ইসলামোফোবিয়া আসলে কাকে বলে।’

সাদিক কায়েম বলেন, ‘এমন এক চরম প্রতিকূল প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে আবদুল আল-সাইয়েদ, ইলহান ওমর, জোহরান মামদানি ও রাশিদা তালিবের মতো ব্যক্তিত্বরা আজ নায়কে পরিণত হয়েছেন। তারা শুধু পশ্চিমা সংখ্যালঘু মুসলিমদের কাছেই নন, বরং প্রাচ্যের প্রতিটি মুক্তিকামী মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। ক্রমবর্ধমান বর্ণবাদ ও ইসলামবিদ্বেষের চরম বৈরী পরিবেশে নিজের ধর্মীয় ও জাতিগত স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখেও যে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব—তারা তা প্রমাণ করে দেখিয়েছেন।’

নির্বাচনি কৌশল ও আদর্শিক রাজনীতির প্রশংসা করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘আবদুল আল-সাইয়েদের প্রচারণার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল নীতিভিত্তিক রাজনীতি। খোদ রাষ্ট্রীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে তার ধর্ম ও রাজনৈতিক পরিচয়কে লক্ষ্য করে চরম আক্রমণ শানানো হলেও তিনি ব্যক্তিগত কাদা ছোড়াছুড়িতে না গিয়ে জনকল্যাণমূলক নীতির ওপর ভর করে প্রচারণা চালিয়েছেন। এটাই হলো ‘নতুন রাজনীতি’—নীতির রাজনীতি, জনস্বার্থের রাজনীতি।’

নিজের রাজনৈতিক দর্শনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে সাদিক কায়েম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে রাজনীতির এই নীতিভিত্তিক মানদণ্ডকেই ধারণ ও প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আপনার যদি আমার চেয়ে উন্নত নীতি ও জনকল্যাণমূলক পরিকল্পনা থাকে, তবে আপনারই জয়ী হওয়া উচিত। আর তা না থাকলে পরাজয়ই প্রাপ্য।’

ঐতিহাসিক এই বিজয়ে ডা. আবদুল আল-সাইয়েদকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে ডাকসু ভিপি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে মিশিগান অথবা ঢাকায় তাদের মধ্যে পারস্পরিক সাক্ষাৎ ঘটবে।

source: Daily Amar Desh

Leave a Reply

Back to top button