Uncategorized
অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার কারণে সংস্কারের কথা বললে মানুষ গালি দেয়: আব্দুল কাদের

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কোনো সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি, তাদের ব্যর্থতার কারণে সংস্কারের কথা বললে মানুষ গালি দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৯ দফার ঘোষক আব্দুল কাদের।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত জুলাই গণ–আন্দোলন নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকারে আব্দুল কাদের বলেন,‘‘মানুষ জীবন দিয়ে অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল একটা পরিবর্তন ঘটানোর। তারা মাঠে নেমেছে, আবার মাঠ থেকে উঠে গেছে। তাদের আশা–আকাঙ্ক্ষা, চিন্তাভাবনার বাস্তবায়ন হয়নি। হাসিনার আমলে মানুষের কোনো মূল্য ছিল না। এখনো একই ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে। এটা খুবই হতাশাজনক। গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার কখনো আমাদের ডাকেনি। তাদের কাছে আমাদের মতামতের কোনো মূল্য ছিল না, রাস্তায় নামা লাখ লাখ মানুষের মতামতের মূল্য তো দূরের ব্যাপার।’’
তিনি অভিযোগ করে বলেন,‘‘অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকায় অব্যবস্থাপনা হলো। কোনো সেক্টরে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি। তাঁরা নিজেদের এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যে সংস্কারের কথা বললে মানুষ গালি দেয়। এর ফল আমাদের দীর্ঘদিন টানতে হবে।’’
হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন,‘‘স্ত্রীকে হারানো মানুষ এসে তাঁর স্বর্ণালংকার আমাদের দিয়ে গেছেন। কিন্তু সেই মানুষের আস্থা ধরে রাখা যায়নি। এখন সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে ডাকলেও তো মানুষ আসবে না। এখন অন্য কেউ স্বৈরাচারী হলেও মানুষ কারও ওপর আস্থা রাখবে না। দীর্ঘ সময়ের জন্য একটি সম্ভাবনাকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে।’’
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে আব্দুল কাদের বলেন,‘‘৫ আগস্ট রাতে নাহিদ, আসিফ, মাহফুজরা নাবিলা ইদ্রিসের (সাবেক গুম কমিশনের সদস্য) বাসায় উপদেষ্টাদের তালিকা ঠিক করে ফেললেন। জনগণ কী চায়, তারা ছাত্রদের শাসনক্ষমতায় চায় কি না, সেটা ভাবা হয়নি। লিয়াজোঁ কমিটিতে কারা থাকবেন, তা কীভাবে ঠিক হলো, আমরা জানি না। ৭ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তিন বাহিনীর প্রধানসহ যে বৈঠক হয়, সেখানে দেশের মানুষের ভাগ্য নির্ধারিত হয়। সেখানে শহীদদের রক্তের ওপর দিয়ে ভাগাভাগি হলো উপদেষ্টা পরিষদে বিএনপির কয়জন আসবে, জামায়াতের কয়জন থাকবে, ছাত্রদের পক্ষ থেকে কয়জন থাকবে। জনগণ, শিক্ষার্থী, বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ—কারও মতামত ছাড়াই উপদেষ্টা পরিষদ হলো। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, ত্রাণ ও দুর্যোগ উপদেষ্টা ছিলেন শারীরিকভাবে অসুস্থ। তাঁরা কীভাবে মন্ত্রণালয় চালাবেন? তাঁদের নিয়তই ছিল ক্ষমতা।’’
আশা প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই নেতা বলেন, ‘‘আমরা যে পরিবর্তন ঘটাতে পারি, জুলাইয়ের মাধ্যমে সে সম্ভাবনার দরজা উন্মোচিত হয়েছে। আগে ভোটাধিকার ছিল না, এখন আমাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণের কাছে আমরা দায়বদ্ধ—এ ভাবনা প্রধানমন্ত্রীসহ জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। মানুষের মনোভাবেও পরিবর্তন এসেছে। মানুষ আশা পেয়েছে যে তারা চাইলে সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে পারে। জনগণের মধ্যে যে সচেতনতা জেগেছে, সেটাকে অব্যাহত রাখতে হবে।’’
source: The Dhaka Diary