‘র’ সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা, সেনাপ্রধানের সম্পৃক্ততা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

সেনাবাহিনীতে চলমান অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের মধ্যে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের গত ২ অক্টোবরের অনুষ্ঠিত দরবারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ওই দরবারে বাহিনীর পক্ষ থেকে সেনাপ্রধানের কাছে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর প্রশ্ন উত্থাপন করা হলেও তিনি সেগুলোর কোনো সন্তোষজনক ও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে পুনরায় দরবার আহ্বান করার কথা বলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
সেনাসদস্যদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর মধ্যে প্রধান ছিল—সরকারি আদেশ পালনকারী অনেক সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইসিটিতে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট শঙ্কা, ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো কার্যক্রমে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও এর নেতিবাচক পরিণতি, বিগত ৯ মাস ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন থেকে সৈন্য নিয়োগ বন্ধ থাকা, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং সেনাবাহিনীকে তথাকথিত ‘ইসলামাইজেশন’ করার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত কার একক বা সম্মিলিত ইন্ধনে হচ্ছে—তা নিয়ে প্রশ্ন। এসব বিষয়ে সেনাপ্রধানের স্পষ্ট অবস্থান না থাকায় বাহিনীর ভেতরে গুঞ্জন ও উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং দেশে গোপন নাশকতার ছক কষার অভিযোগে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দীর্ঘ নজরদারির পর একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে উঠে এসেছে যে, এই সাবেক কর্মকর্তারা পতিত স্বৈরশাসক গোষ্ঠীর পক্ষে তহবিল সংগ্রহ ও দেশে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত দেবাশীষ এবং হানিট্র্যাপসহ বিভিন্ন অপকর্মে যুক্ত থাকা গুলশান আরার মতো বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তৎপরতার পেছনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা বা নিষ্ক্রিয়তা রয়েছে কি না—তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
source: Azadir Dak