News

‘চলো দিল্লি’ ঘিরে উত্তাল ভারত, কংগ্রেস-বিজেপির পাল্টাপাল্টি আক্রমণ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে ঘিরে কংগ্রেস ও ক্ষমতাসীন বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ।

আজ রোববার (১ নভেম্বর) মিন্টো রোড-কনট প্লেস সংযোগস্থল থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রামলীলা ময়দানে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র উদ্যোগে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে জবাবদিহি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেন বিরোধী নেতারা।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদব বলেন, রামলীলা ময়দানে আজ এমন এক ‘মহাভারত’ আয়োজন করা হয়েছে, যা ভোট চুরির বিরুদ্ধে। মহাভারতের শকুনির পাশা খেলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই বিরোধীরা মাঠে নেমেছেন।

অন্যদিকে, বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির সাবেক সভাপতি জেপি নাড্ডা। তিনি ‘চলো দিল্লি’ মিছিলকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন।

নাড্ডার অভিযোগ, রাহুল গান্ধীর রাজনীতির কৌশল হলো প্রথমে মিথ্যা প্রচার ও হট্টগোল সৃষ্টি করা, এরপর রাস্তায় অরাজকতা উসকে দেওয়া এবং শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এমনকি বিদেশি শক্তির ইঙ্গিতে নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, রামলীলা ময়দানে যা ঘটছে, তা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ নয়; বরং রাজনৈতিকভাবে বারবার প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের মঞ্চস্থ একটি নাটক। তার দাবি, এই কর্মসূচি কংগ্রেসের রাজনৈতিক পতনের কফিনে শেষ পেরেক হয়ে থাকবে।

এদিকে, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গায় নিহতদের স্মরণে দিল্লির পশ্চিমাঞ্চলে পৃথক মিছিল বের করে বিজেপি। দলটির অভিযোগ, দাঙ্গার স্মৃতিবিজড়িত দিনে কংগ্রেসের সমাবেশ আয়োজন শিখ সম্প্রদায়ের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ১ নভেম্বর শিখ সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি দিন। এমন দিনে রাহুল গান্ধীর সমাবেশ দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতস্থানে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো। কংগ্রেসকে এদিন সমাবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

বিজেপির জাতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও বিরোধীদের কর্মসূচির পাল্টা হিসেবে হরিয়ানার রোহতকে ‘লোকতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ শীর্ষক মিছিলে নেতৃত্ব দেন।

অন্যদিকে, কনট প্লেসে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়ার জন্য বিজেপিকে দায়ী করেছেন রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, বিরোধী জোটের পক্ষ থেকে সমাবেশে অংশগ্রহণকারীদের কনট প্লেস থেকে কেনাকাটা করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, জোর করে দোকানপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাহুলের দাবি, এর ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিজেপি কীভাবে দোকানদারদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা পুরো দেশ দেখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এআর

source: Barta Bazar

Leave a Reply

Back to top button