জনসমক্ষে পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না: জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম

কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত সংবাদ, মতামত বা সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে কারও দ্বিমত থাকতে পারে। তবে এর প্রতিবাদ জানানোর সুন্দর ও সভ্য পদ্ধতি রয়েছে। কোনো পত্রিকা জনসমক্ষে ছিঁড়ে ফেলা কিংবা অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার অংশ হতে পারে না।
রোববার এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সম্প্রতি রাশেদ খান লাইভে এসে ‘আমার দেশ’ পত্রিকা জনসমক্ষে ছিঁড়ে ফেলার যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ তা সমর্থন করে না। মতের অমিলের কারণে কোনো সংবাদপত্রের প্রতি এ ধরনের আচরণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের বহুত্ববাদী পরিবেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
তিনি আরো বলেন, কোনো সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা বক্তব্যের সঙ্গে আপত্তি থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবাদ জানানো যায়। এ ছাড়া প্রতিবাদলিপি পাঠানো, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা কিংবা আইনি পদ্ধতিতে বিষয়টি মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা, অপমান করা কিংবা উত্তেজনাপূর্ণ প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
জমিয়তের মহাসচিব আরো বলেন, আজ একটি পত্রিকার মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে যদি সেটিকে প্রকাশ্যে অপমান করা হয়, তাহলে আগামীকাল ভিন্নমতের অন্য কোনো সংবাদমাধ্যমও একই ধরনের আচরণের শিকার হতে পারে। তাই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে মতভিন্নতাকে সহনশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করা জরুরি।
রাশেদ খানের ওই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবাদ জানাতে হবে যুক্তি, তথ্য ও সভ্য ভাষার মাধ্যমে। সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা বা অবমাননা করা কখনোই প্রতিবাদের ভাষা হতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
এআরবি
source: Daily Amar Desh