তাহসিফের মৃত্যুতে বন্ধু দীপের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে, বারের সেই তরুণীও গ্রেপ্তার

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮)। পরদিন বিকেলে টঙ্গীর রাজাবাড়ি ঘাটের কাছে তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মরদেহ। এই হত্যা মামলায় এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন ‘দিশা’ নামের এক তরুণী। টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ জানান, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই মামলায় তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছেন তদন্তকারীরা। শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ দোহা সুমন জানান, পুলিশ সাত দিনের আবেদন করলেও আদালত চার দিন অনুমোদন দেন। একই দিন দিবাগত মধ্যরাত থেকেই শুরু হয় দীপের জিজ্ঞাসাবাদ।
নৌপুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, তাহসিফের মৃত্যুতে দীপের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
এক তদন্তকর্মকর্তার ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত তাহসিফের সঙ্গেই ছিলেন দীপ। ফুটেজ ও গোপন তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তাঁকে নিয়ে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন দীপ। সেখান থেকে ফিরেছেন একা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেও তাঁর বয়ানে চরম অসংগতি মেলায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে আটক করে পিবিআই। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। লিখিত অভিযোগে বাবা সরাসরি কাউকে অভিযুক্ত করেননি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
উত্তরার বাসায় সাংবাদিকদের এনায়েতুল করিম বলেন, দীপ প্রায়ই তাঁদের বাসায় আসতেন। কিন্তু পিবিআইয়ের কাছে দীপ স্বীকার করেছেন, তাঁরা টঙ্গী গিয়েছিলেন; অথচ তাঁকে বলেছিলেন, তাহসিফকে বাসার চত্বরে নামিয়ে দিয়ে গেছেন। এতেই বড় সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, আসলে কী ঘটেছে বা কারা জড়িত, তিনি জানেন না। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তে সত্য প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
সূত্রঃ ইত্তেফাক
source: The Delta Lens