পূর্ব উপকূলে টহল দিয়ে জাহাজ চলাচলে হয়রানি করছে চীন: তাইওয়ান

তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলে সর্বশেষ টহলের মাধ্যমে চীনের কোস্ট গার্ড জাহাজ চলাচলে হয়রানি করছে এবং কাল্পনিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড। এ সময় নজরদারি বজায় রাখতে নিজেদের জাহাজও মোতায়েন করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে মনে করে। গত জুন থেকে দ্বীপটির পূর্ব উপকূলে নিয়মিত কোস্ট গার্ড টহলের মাধ্যমে তৎপরতা বাড়িয়েছে দেশটি। বেইজিংয়ের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যানকারী তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের ধারণা, সামরিক, আধাসামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন সম্পদের সমন্বয়ে সম্ভাব্য সামুদ্রিক অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন।
তাইপের বিবেচনায়, অবরোধ বা সংঘাতের পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে যুদ্ধকালীন সরবরাহ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলের সমুদ্র এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, তাইওয়ানের কোনো সার্বভৌমত্বের দাবি স্বীকার করে না চীন।
শনিবার গভীর রাতে চীনের সর্বশেষ পূর্ব উপকূলীয় টহলের ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড জানায়, এতে চীনের দুটি জাহাজ অংশ নিয়েছে। সেগুলোর ওপর নজরদারি করতে নিজেদের বাহিনীও পাঠিয়েছে তারা।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, দেশটির একটি জাহাজ থেকে রেডিও বার্তা প্রচার করে জানানো হচ্ছে, তারা আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করছে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।
তবে কার উদ্দেশে ওই বার্তা প্রচার করা হয়েছে, তা জানানো হয়নি। ভিডিওতে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মাছ ধরার ট্রলারের দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড বলেছে, ‘রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে সমুদ্রে জাহাজগুলোকে হয়রানি করার চীনের প্রচেষ্টা ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোর সুস্পষ্ট উদাহরণ। এটি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে এবং বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘তাইওয়ানের পূর্বাঞ্চলের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওপর আমাদের দেশের সার্বভৌম অধিকার ও এখতিয়ার রয়েছে। তাইওয়ানের কোনো জলসীমার ওপর চীনের একেবারেই কোনো এখতিয়ার নেই।’
তাইওয়ানের কোস্ট গার্ড পৃথকভাবে জানিয়েছে, শনিবার চীন আরও একটি কোস্ট গার্ড জাহাজ পাঠিয়েছে তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি এলাকায়। দ্বীপপুঞ্জটি দক্ষিণ চীন সাগরের উত্তর প্রান্তে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৩ বার প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জের জলসীমা থেকে চীনা কোস্ট গার্ডের জাহাজগুলোকে ‘বহিষ্কার’ করেছে তাইওয়ান।
প্রাতাস দ্বীপপুঞ্জে স্থায়ী কোনো বেসামরিক জনবসতি নেই। দ্বীপপুঞ্জটি দক্ষিণ তাইওয়ান ও হংকংয়ের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তাইওয়ান থেকে দূরত্বের কারণে দ্বীপপুঞ্জটি চীনের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাইওয়ান থেকে এর দূরত্ব ৪০০ কিলোমিটারেরও বেশি (২৫০ মাইল)।
তথ্যসূত্র: রয়াটার্স
source: Barta Bazar