সাতক্ষীরায় পশু ডাক্তারের চিকিৎসায় ২ সন্তানের জননীর মৃত্যুর অভিযোগ!

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা বাজারের গবাদিপশু চিকিৎসকের ভুল ইনজেকশনে ২ সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, গত ১ মে শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে কুলিয়া পুষ্পকাটী গ্রামের ইবাদুল ইসলামের স্ত্রী ও ২ সন্তানের জননী পারুল খাতুন তার স্বামীকে নিয়ে দন্ত চিকিৎসক সংঙ্কর এর কুলিয়া চেম্বারে যায়। তাকে না পেয়ে বহেরা বাজারে অবস্থিত কথিত পশু চিকিৎসক আবু সাঈদের চেম্বারে গেলে তিনি একটি সেফট্রিয়াক্সন ১ গ্রাম ইনজেকশন ও একটি ইসোমিপ্রাজল ৪০ ইনজেকশন শিরায় পুষ করে। তার পরপরই সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অভিযুক্ত আবু সাঈদ বহেরা উত্তর পাড়ার কালা গফফারের ছেলে এবং পেশায় একজন গবাদিপশু চিকিৎসক। মানুষের দাঁতের ব্যথার চিকিৎসার কোনো আইনগত এখতিয়ার না থাকলেও তিনি পারুল খাতুনের শরীরে পরপর ২টি ইনজেকশন প্রয়োগ করার পরপরই তার শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়, অবস্থা খারাপ দেখে তখন ডাক্তার আবু সাঈদ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে, পারুলকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার পথে আলিপুর হাটখোলার রাত আনু: ১০ টার সময় তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর পরে লাশ বাড়িতে আনার পর মুহূর্তেই এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাতেই বহেরা বাজারে আবু সাঈদের চেম্বার ও বাড়ি ঘেরাও করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত গবাদিপশু চিকিৎসক সুকৌশলে পালিয়ে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতেই দুই গ্রুপের মধ্যে টাকা পয়সার একটা সমোঝোতা হয়। সেকারণই এমন একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরও কোনো প্রকার ময়নাতদন্ত ছাড়াই ২ মে শনিবার সকাল ৯টায় তড়িঘড়ি করে পারুল খাতুনের লাশ দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, কার স্বার্থে, কিসের ভয়ে পোস্টমর্টেম ছাড়াই লাশ দাফনে এত তোড়জোড় কেন? এই ঘটনায় কুলিয়া, বহেরাসহ পুরো দেবহাটা উপজেলায় চরম ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন গ্রাম ডাক্তার ও গবাদিপশু চিকিৎসক কোন রোগীর শরীরে ১গ্রাম ইনজেকশন পুশ করার এখতিয়ার রাখে না।
এ ব্যাপারে মৃত্যু পারুলের স্বামী এবাদুল জানান, আমার স্ত্রী পারুলের ইতিপূর্বে ২/৩ বার স্ট্রোক হয়েছিল এবং সে অসুস্থ ছিল যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এখানে ডাক্তারের কোন দোষ ছিল না বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল আলিম বলেন, আমি গিয়াছিলাম, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে বলেছে এর আগেও পারুলের ২/৩ বার স্ট্রোক করছিল। স্ট্রোকে সে মারা গেছে। তাদের পক্ষ থেকে থানার কোন অভিযোগ দেই নাই।
এবিষয়ে ডাক্তার আবু সাঈদের ০১৯১৬৫০৫০২০ নাম্বারে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি কলটি রিসিভ করেন নাই। সে কারণে তার বক্তব্যে নেওয়া সম্ভব হয়নি।তবে অভিযুক্ত ডাক্তার আবু সাঈদ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোঃ আরেফিন জুয়েল বলেন, মৃত্যুর বিষয় টা আমার জানা নেই। আমি এখনই খোঁজ নিচ্ছি। তাছাড়া তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বার্তা বাজার/এমএমএইচ
প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু
Source: bartabazar.com

