Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী দাম বেড়েছে শ্যাম্পু, বডি ওয়াশ ও ডায়াপারের, কমেছে দুধ-ডিমের

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি কেবল পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্লাস্টিক প্যাকেজিং ও কাঁচামালের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের বাজার খরচকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে প্লাস্টিক তৈরির প্রধান উপাদান পেট্রোকেমিক্যাল এবং পলিথিনের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় বডি ওয়াশ থেকে শুরু করে শিশুদের ডায়াপার—সবকিছুরই দাম ঊর্ধ্বমুখী।

প্লাস্টিক তথ্য সংস্থা পিআইই (পিআইই)-এর তথ্যমতে, ইউরোপে পানীয়র বোতলে ব্যবহৃত পিইটি প্লাস্টিকের দাম গত বছরের তুলনায় ১৫.৪% বেড়েছে। উত্তর আমেরিকায় পলিথিনের দাম বেড়েছে প্রায় ২৯%। যেহেতু অধিকাংশ প্লাস্টিকই খনিজ তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে তৈরি হয়, তাই তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্লাস্টিক পণ্যে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নীলসেন আইকিইয়ের তথ্যানুয়ায়ী, যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে মুদি পণ্যের গড় দাম ২.৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

জ্বালানি সংকটের এই প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে টয়লেট্রিজ এবং ব্যক্তিগত যত্ন নেওয়ার পণ্যের ক্ষেত্রে। ভারী প্লাস্টিকের বোতলে বিক্রি হওয়া বডি ওয়াশের দাম গত এক বছরে ৭.৭% বেড়েছে। এছাড়া শ্যাম্পুর দাম ৯.২%, টুথপেস্টের দাম ৬.৭% এবং টয়লেট টিস্যুর দাম ৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি প্লাস্টিকের বোতলে থাকা পানির দামও বেড়েছে ৫.৮%। কারণ একটি পানির বোতল তৈরির খরচের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশই ব্যয় হয় প্লাস্টিক রেজিন ও ক্যাপ তৈরিতে।

এশিয়া অঞ্চল, বিশেষ করে চীন, যারা বিশ্বের বৃহত্তম প্লাস্টিক উৎপাদনকারী কেন্দ্র, সেখানেও ভয়াবহ সংকট দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল ও ন্যাপথা সরবরাহে ঘাটতি থাকায় চীনের অনেক শোধনাগার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে চীনের বাজারে থার্মোপ্লাস্টিকের দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চে প্রায় ৪৪% বেড়েছে। গুয়াংডংয়ের প্লাস্টিক ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কাঁচামালের দাম ৫০-৬০% বেড়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

তবে গত বছরের চরম সংকটের পর বাজার পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় দুধ ও ডিমের দাম কমেছে। মূলত গত বছর সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি থাকার কারণে এই দুটি নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, অন্যান্য পণ্যের দাম ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ঊর্ধ্বমুখী হলেও কেবল দুধ ও ডিমের ক্ষেত্রেই দাম কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে গরুর দুধের দাম ২.৩% এবং ডিমের দাম প্রায় ৪৯.১% পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধের কারণে পশুখাদ্য ও সার আমদানিতে ব্যয় বাড়লে এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।

প্যাকেজড পণ্য উৎপাদনকারী বড় কোম্পানি যেমন নেসলে, ইউনিলিভার এবং প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল ইতিমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, জ্বালানি ও প্লাস্টিকের এই বাড়তি খরচ মেটাতে তারা পণ্যের দাম আরও বাড়াতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এমনকি যদি যুদ্ধ আজই থেমে যায়, তবুও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে এবং আকাশচুম্বী এই দাম নিচে নামতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। ফলে সামনের মাসগুলোতে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedailycampus.com

Leave a Reply

Back to top button