Jannah Theme License is not validated, Go to the theme options page to validate the license, You need a single license for each domain name.
Bd বাংলাদেশ

আমিরাতকে ‘গুঁড়িয়ে দেওয়ার’ পরিকল্পনা সৌদিকে জানিয়েছিল ইরান

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট:

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল' (WSJ) এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতকে 'গুঁড়িয়ে দেওয়ার' একটি গোপন পরিকল্পনার কথা সৌদি আরবকে জানিয়েছিল ইরান। তেহরানের এই পদক্ষেপকে বিশ্লেষকরা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান ফাটলকে আরও প্রশস্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে বিভাজন তৈরির কৌশল হিসেবে দেখছেন।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সৌদি আরব ও ওমানকে সরাসরি বার্তা দিয়ে জানায় যে, তারা আমিরাতকে তাদের 'আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু' হিসেবে বিবেচনা করছে।

এমনকি এক পর্যায়ে ইরানি কর্মকর্তারা সৌদি কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে বলেন যে, তারা আমিরাতকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে গড়ে ওঠা কৌশলগত ও বাণিজ্যিক দূরত্বকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বলয় সংহত করাই তেহরানের মূল লক্ষ্য।

বিগত কয়েক বছর ধরে সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের সম্পর্কে ওপেক প্লাসের তেল নীতি এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি নিয়ে টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি আমিরাতের ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সংবাদমাধ্যম 'মিডল ইস্ট আই' জানাচ্ছে, ইরানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি উপসাগরীয় এই দুই শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে আরও দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

তবে সরাসরি যুদ্ধের হুমকির মধ্যেও ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সচল রয়েছে। সম্প্রতি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের মধ্যে এ বিষয়ে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্রদের মধ্যে এই বার্তা দিতে চায় যে, আবুধাবির 'ইসরাইল-ঘনিষ্ঠ' নীতি তাদের চরম ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বর্তমানে আমিরাতকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের মাত্রা তীব্রতর হচ্ছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরান অন্তত ২ হাজার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন দিয়ে দেশটিকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমিরাত ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা জোট আরও জোরদার করেছে। জানা গেছে, তেল আবিব আবুধাবিকে অত্যাধুনিক লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও উন্নত সমরাস্ত্র সরবরাহ করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন থাকা হাজার হাজার মার্কিন সৈন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এই দেশগুলোর প্রতিরক্ষা নির্ভরশীলতা সত্ত্বেও আমিরাত কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ ওয়াশিংটনকে জানিয়েছেন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। সব মিলিয়ে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য ও উপসাগরীয় দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কে এক নতুন এবং জটিল সমীকরণ তৈরি করেছে।

প্রবাস কন্ঠ ডেস্ক রিপোর্ট/আ/মু

Source: thedeltalens.com

Leave a Reply

Back to top button