News

ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ঠেকাতে নির্বাচনের আগে সংঘাত উসকে দিচ্ছে নেতানিয়াহু

যতদিন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন, ততদিন গাজা কিংবা অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করতে দেবেন না বলে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের আরব মুসলিম দল ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’-এর নেতা মানসুর আব্বাসের এক বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে গিয়েই তিনি এই মন্তব্য করেন।

এর আগে আরব শহর তাইবেতে নিজ দলের সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় মানসুর আব্বাস বলেন, ‘ফিলিস্তিন ইতোমধ্যেই একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিদ্যমান এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ একে স্বীকৃতি দিয়েছে।তিনি ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিও আহ্বান জানান।

আব্বাসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু সাফ জানান, তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গাজা কিংবা পশ্চিম তীরে ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র তৈরি হতে দেওয়া হবে না। পশ্চিম তীরকে বোঝাতে তিনি বাইবেলীয় ঐতিহাসিক নাম ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ ব্যবহার করেন।

সংঘাত উসকে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার অভিযোগ

এদিকে ফিলিস্তিনের সাবেক মন্ত্রী ও পিএলও (PLO) নির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য আহমেদ মাজদালানি অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া চিরতরে নস্যাৎ করতে এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে জনসমর্থন বাড়াতে নেতানিয়াহু সরকার পরিকল্পিতভাবে এই সংঘাত উসকে দিচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (PA) আর্থিকভাবে পঙ্গু করার পাশাপাশি পশ্চিম তীরকে দ্বিখণ্ডিত করে ‘বৃহত্তর জেরুজালেম’ গড়ে তোলার নেপথ্য কৌশল হিসেবেই ইসরায়েল তাদের পুরোনো দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাগুলো নতুন করে সামনে আনছে।

আগামী নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের সংকট

আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখেই নেতানিয়াহুর এমন কঠোর অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে।কারণ সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে তার ক্ষমতাসীন জোটের চরম জনপ্রিয়তা হ্রাসের চিত্র দেখা গেছে।

বর্তমানে পার্লামেন্টে নেতানিয়াহুর দল লিকুদের ৩২টি আসন থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে তা কমে ২০টিতে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।এতে করে নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসনের বহুদূরে আটকে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে নেতানিয়াহুর দল ও তার সমমনা জোট।

source: Azadir Dak

Leave a Reply

Back to top button