শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিন দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার, অস্ত্র উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমকারী, হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ প্রায় ২৭ মামলার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আলামিনকে তার দুই সহযোগী খায়রুল ও কামালসহ গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৩। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি রিভলবার ও তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। অনলাইনভিত্তিক একটি ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে চড়া অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং সশস্ত্র হামলার ঘটনার ঠিক পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই সাঁড়াশি অভিযান বেশ স্বস্তি এনেছে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
রামপুরা, বনশ্রী ও এর আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে পুলিশের খাতায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পিচ্চি আল-আমিন। হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার বিরুদ্ধে প্রায় ২৭টি মামলা রয়েছে। এলাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবন, কাঁচাবাজার, দোকানপাট, টেম্পুস্ট্যান্ডের পাশাপাশি ডিস ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ীদের নিয়মিত টার্গেট করে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করত সে ও তার সিন্ডিকেট।
সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর রামপুরার বনশ্রী এলাকার ‘গ্রীনজোন অনলাইন’ নামক একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলা চালায় এই সন্ত্রাসী ও তার অনুসারীরা। ব্যবসা করতে হলে এককালীন ২০ লাখ টাকা চাঁদা এবং প্রতি মাসে আরও ৫ লাখ টাকা দিতে হবে—এমন দাবি তোলার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।
এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে রামপুরা থানার টিভি রোড এলাকায় আকস্মিক অভিযান চালায় এসআরবি-৩-এর একটি বিশেষ দল। সেখানে ঘেরাও করে পিচ্চি আল-আমিন এবং তার দুই সহযোগী খায়রুল ও কামালকে গ্রেপ্তার করা হয়। তল্লাশির সময় আল-আমিনের হেফাজত থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার ও ৫ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
গত জুনে রামপুরায় গুলিতে আহত হয়ে মারা যায় পুলিশের একসময়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্ল্যা পলাশ। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে পিচ্চি আলামিনের নাম আসে। মামলায় মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। পলাশকে হত্যার আগে তার ওপর গুলির ঘটনায় করা মামলায় পিচ্চি আলামিন এজাহারভুক্ত আসামি। পরে পলাশের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যামামলায় রূপ নেওয়ার কথা জানায় পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির আইনে নতুন করে মামলা রুজুসহ আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
source: Daily Amar Desh