শেকৃবির গবেষণা মাঠে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) গবেষণা মাঠে প্রস্তাবিত সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপিও প্রদান করেন তারা।
মানববন্ধনে জানানো হয়, ১৯২০ সালে কৃষিশিক্ষার অভূতপূর্ব উন্নয়নে ‘দ্য বেঙ্গল অ্যাগ্রিকালচার ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার ২৯৮ দশমিক ৪৮২ একর জমি অধিগ্রহণ করে, যা বর্তমানে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নামে পরিচালিত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ওই অধিগ্রহণকৃত জমির একাংশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার মাঠ তৈরি করা হয় এবং সম্প্রতি সেখানে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের স্পষ্ট দাবি, উক্ত স্থানে সচিবালয় নির্মাণ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।
বক্তারা বলেন, শেরেবাংলা নগরের এই প্রাঙ্গণটি প্রচুর গাছপালা, প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ ও ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ। এখানে কোনো ধরনের বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে তা স্থানীয় পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধ্বংস করবে। পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ওপর চরম বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং সাধারণ মানুষের প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়ামের মুক্ত স্থান সংকুচিত হয়ে যাবে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার কমিটির আহ্বায়ক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সালাহউদ্দিন এম. চৌধুরী বলেন, এই মাঠে কোনোভাবেই সচিবালয় নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। সরকারকে সচিবালয়ের অবকাঠামোর জন্য অবশ্যই বিকল্প জায়গা খুঁজে নিতে হবে। এই ২৮ একরের গবেষণা মাঠটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী গবেষণার জন্যই উন্মুক্ত রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও যোগ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবে দেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তা আজ তীব্র হুমকির মুখে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি গবেষণাকে আরও বেগবান করা জরুরি। তাই বাণিজ্যিক বা প্রশাসনিক স্থাপনার বদলে মাঠটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলে পূর্বাচল বা অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে সচিবালয় স্থানান্তরের আহ্বান জানাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা জানান, সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নগর পরিকল্পনাবিদদের মতামত ও পরিবেশগত প্রভাব (EIA) গভীরভাবে বিবেচনা করা আবশ্যক। একই সঙ্গে শেরেবাংলা নগরের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও কৃষিশিক্ষার স্বার্থ সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
source: Asia Post