ভারতের উত্তর প্রদেশে বিনা মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছে ১ কোটি ৮৯ লাখ পরিবার

ভারতের উত্তর প্রদেশে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত যোগ্য পরিবারগুলোকে দীপাবলি ও হোলি উৎসব উপলক্ষে বিনা মূল্যে একটি করে এলপিজি সিলিন্ডার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে তার এ ঘোষণা এলো।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাজ্যের ১ কোটি ৮৯ লাখের বেশি উপকারভোগীর জন্য এলপিজি সিলিন্ডার রিফিলের ভর্তুকি বিতরণ অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় সিলিন্ডার রিফিলের ভর্তুকি দিতে রাজ্য সরকার ১ হাজার ৫০০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। অনুষ্ঠানে গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভর্তুকির পরিমাণও তুলে ধরেন আদিত্যনাথ।
তিনি জানান, বর্তমানে একটি গৃহস্থালি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৯৮৩ দশমিক ৪৫ রুপি। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার ৩৩৫ রুপি ভর্তুকি দেয়। ফলে গ্রাহককে নিজের পকেট থেকে দিতে হয় ৬৪৮ দশমিক ৫৫ রুপি।
আদিত্যনাথ বলেন, উজ্জ্বলা যোজনার আওতাভুক্ত দরিদ্র পরিবারগুলোকে দীপাবলি ও হোলি উপলক্ষে একটি করে সিলিন্ডার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ দিয়ে পরিবারগুলো উৎসবের জন্য মিষ্টি ও প্রদীপ কিনতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় কংগ্রেস সরকারের আমলের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সময়ের তুলনা করেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, আগে একটি গ্যাস সংযোগ পেতেও মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো। বর্তমান সরকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে বিনা মূল্যে গ্যাস সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।
এদিকে, আগামী ৭ নভেম্বর অযোধ্যায় অনুষ্ঠেয় দীপোৎসবকে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন যোগী আদিত্যনাথ। তার মতে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে একত্র করার বার্তা দেয় এ উৎসব।
দীপোৎসবের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতে মুখ্যমন্ত্রীর অযোধ্যা সফরের কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টেও দীপোৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরেন তিনি। যোগীর অভিযোগ, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে জাতপাতের বিভাজনকে ব্যবহার করা হয়েছে। এর বিপরীতে ২০১৭ সালে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া দীপোৎসব অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সবার অংশগ্রহণের উৎসবে পরিণত করেছে।
পোস্টে তিনি বলেন, বিভিন্ন মানুষ নিজ নিজ হাতে প্রদীপ জ্বালালেও সেই আলো পুরো সমাজকে এক করে। দীপোৎসবের মূল বার্তা এটিই।
জাতপাতের বিভাজন সমাজকে বিচ্ছিন্ন করে, আর অভিন্ন বিশ্বাস ও সংস্কৃতি মানুষকে একসূত্রে যুক্ত করে এমন মন্তব্যও করেন আদিত্যনাথ। তার ভাষ্য, ২০১৭ সালে দীপোৎসব চালুর মধ্য দিয়ে রাজ্য সরকার অযোধ্যার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
শু
source: Barta Bazar