শহীদ আবু সাঈদ-ওয়াসিমরা আমাদের বিজয়ের পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন: ছাত্রদল সেক্রেটারি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, শহীদ আবু সাঈদ এবং শহীদ ওয়াসিমরা আমাদের বিজয়ের পথ দেখিয়ে গিয়েছিলেন। এটি এমন এক টার্নিং পয়েন্ট ছিল, যেখান থেকে আর পেছনে ফেরার কোনো অবকাশ ছিল না।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) গণমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, “আপনারা সকলেই জানেন যে, বিগত ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র মাটিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর; বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নজিরবিহীন ও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছিল। এরই প্রতিবাদে সারা বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিক্ষোভের ডাক দেয়। ১৬ জুলাই বিক্ষোভের দিনের শুরুতেই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সহযোদ্ধা আবু সাঈদ শহীদ হন। এর কিছু সময় পরেই চট্টগ্রামে চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, আমাদের আরেক প্রিয় সহযোদ্ধা ওয়াসিম আকরাম শহীদ হন। আমরা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি আজকের এই দিনে শহীদ হওয়া মোট ছয়জন বীর আত্মাকে। মূলত ১৬ জুলাইয়ের এই আত্মত্যাগ পুরো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক।”
তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাঈদ এবং শহীদ ওয়াসিমরাই যেন আমাদের বিজয়ের পথ দেখিয়ে দিয়ে গিয়েছিলেন। এটি এমন এক টার্নিং পয়েন্ট ছিল, যেখান থেকে আর পেছনে ফেরার কোনো অবকাশ ছিল না। শহীদ হওয়ার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া শহীদ ওয়াসিমের সেই শেষ স্ট্যাটাসটি-যেখানে তিনি আহ্বান জানিয়েছিলেন, ‘চলে আসুন ষোলশহরে’। এই ডাকটি ছিল বাংলাদেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ প্রতিটি কর্মীর জন্য একটি ঐতিহাসিক বার্তা।”
ছাত্রদলের নেতা নাছির উদ্দীন বলেন, “যে বার্তাটি আমাদের দলের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান আমাদের দিয়েছিলেন। আমরা পৌঁছে দিয়েছিলাম আমাদের তৃণমূলের সহযোদ্ধা ওয়াসিমদের কাছে। বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা যে দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী আন্দোলন সংগ্রাম করেছিলাম, তার সফল পরিসমাপ্তি ঘটেছিল চব্বিশের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে। শহীদ ওয়াসিম এবং আবু সাঈদসহ প্রায় দুই হাজারেরও বেশি বীর শহীদের মহৎ আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত হয়েছে।”
source: The Dhaka Diary

