News
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো টেনশন নেবেন না, দিস ইজ নরমাল— স্টুডিওতে ধ্বংসযজ্ঞের পর সালমান মুক্তাদির

‘আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো টেনশন নেবেন না, দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ’— রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিজের স্টুডিওতে হামলা ও লুটপাটের পর এ মন্তব্য করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির।
তিনি বলেছেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা এসব করছে, চাঁদাবাজি তোমাদের ফকিন্নি-মিসকিন রাখছে। কারণ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। যত কিছু চুরি, চাঁদাবাজি করো না কেন, এর থেকে বড় হতে পারবে না। এটাই তোমাদের লেভেল।’
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে হামলা ও লুটপাটের পর তিনি লাইভে এসে এসব কথা বলেন।
সালমান মুক্তাদির বলেন, “বিএনপির লোকজন যারা এসব করছে, চাঁদাবাজি তোমাদের ফকিন্নি-মিসকিন রাখছে। কারণ তোমরা স্বপ্ন দেখতে পারো না। যত কিছু চুরি, চাঁদাবাজি করো না কেন, এর থেকে বড় হতে পারবে না। এটাই তোমাদের লেভেল।”
তিনি বলেন, “আজকে আমাদের লাস্ট ব্রাউন ফিশ স্টুডিওতে একটু আগে এখানে অ্যাটাক হয়েছিল। পুরো আক্রমণে আমাদের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। অনুগ্রহ করে এই ভিডিওটা দেখুন। আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের জন্য বিশেষভাবে এই ভিডিওটা বানানো হয়েছে। আপনি কোনো টেনশন নেবেন না। দিস ইজ নরমাল ইন বাংলাদেশ। আমি হাসছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই পাশে একটু আসি। পেছনের দৃশ্যগুলো দেখুন—এটা বাংলাদেশে একমাত্র স্টুডিও। দেশের শিল্প, সংস্কৃতি ও বিনোদন শিল্পে এ ধরনের আর কোনো স্টুডিও ছিল না। প্রশ্ন থাকতে পারে, আমি কেন এত শান্ত? কেন স্থির? ভেঙে পড়ছি না? এই ভিডিওটা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যারা তরুণ, নতুন কিছু করতে চায়; অথবা যাদের বয়স হয়েছে, তারাও জীবনে নতুন কিছু শুরু করতে চায়।”
নিজের ওপর ভরসা করার কথা বলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, যেখানে আপনি কিছু করতে চাইলে এবং সেটা করার সময় কারও তোষামোদ, পৃষ্ঠপোষক না থাকলে, কোনো রাজনৈতিক দলকে অনুসরণ না করলে কিংবা নিরাপত্তা টাকা-পয়সা দিয়ে কিনতে না পারলে—তাহলে আপনাকে নিজের ওপরই ভরসা করতে হবে।”
পায়ের নিচের মাটি শক্ত না থাকলে বাংলাদেশে কিছু করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আমি সবসময় বলি, পায়ের নিচের মাটি শক্ত না থাকলে বাংলাদেশে কিছু করা উচিত না। পায়ের নিচের মাটি শক্ত আছে বলেই আমি হেসে-খেলে এই ভিডিও করে আজ বিদায় নিতে পারছি। গত ১২ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে দেখেছি—যে স্বপ্ন আমি একটা ছোট্ট রুম থেকে শুরু করে এত বড় একটা জায়গায় নিয়ে এসেছি, সেটা বাংলাদেশের একটি ধারাবাহিক সাফল্য। বাংলাদেশে স্বপ্ন দেখো এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দাও। তা না হলে তোমার সঙ্গে এটাই ঘটবে।”
এই কনটেন্ট ক্রিয়েটর বলেন, “ভাগ্যক্রমে আমাদের এখানে যারা কাজ করে, আলহামদুলিল্লাহ, কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। এটা হচ্ছে অভ্যর্থনা কক্ষ, যেখানে আমরা অতিথিদের স্বাগত জানাতাম। পরিস্থিতি ঠিক নেই। এই চেয়ারগুলো দেখুন—সবকিছু ভেঙে একদম শেষ করে দিয়েছে। আমার জীবনে ছোটবেলা থেকে যে স্বপ্ন ছিল, আমি সেটা পূরণ করেছি। এটা ছিল আমাদের খাওয়ার জায়গা। তরুণ ছেলে-মেয়েরা এখানে কাজ করত, পণ্য পৌঁছে দিত, সময়ের প্রতিশ্রুতি রাখত। এখান থেকেই তারা ক্লায়েন্টদের সব মার্কেটিংয়ের কাজ করত।”
নিজেকে নিয়ে তিনি বলেন, “তোমরা সালমানদের চিনতে পারোনি। আমি এর থেকে বড় কিছু করব। কিছু একটা করব। এখানেই সৃজনশীলতার কাজ করা হয়েছে।”
সালমান মুক্তাদির বলেন, “এটা ছিল আমার অফিস, যখন সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করতাম। অন্য অংশীদাররা সবসময় রাতে জেগে থাকত। যখন কেউ নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করতে পারত না, তখন সে নিজেই সেখানে থাকত। এরা সবাই আমার ভাই-বোন। আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে এই প্রকল্প। যারা বাংলাদেশে থাকতে চাও, যাদের স্বপ্ন আছে, যারা শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে আছো এবং কিছু করতে চাও—তোমাদের বলছি, এগিয়ে যাও। আমি নতুন টিভিতে এখনো একটা খেলাও খেলতে পারিনি। যে টিভিটা নিয়ে খেলার কথা ছিল, সেটাও ভেঙে দিয়ে গেছে। এটাই কি বাংলাদেশি সংস্কৃতি?”
এর আগে শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর লাইভ ভিডিওতে আসেন সালমান মুক্তাদির। ওই ভিডিওতে স্টুডিওর ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র দেখা যায়। সিসি ক্যামেরাসহ স্টুডিওর সব যন্ত্রাংশ লুট করা হয়েছে। রুমের বিভিন্ন জিনিসপত্রও লুটপাট করা হয়েছে। পরে সেগুলো ভেঙে তছনছ করে ফেলা হয়।
source: The Dhaka Diary