জামায়াতকে রাশেদ খাঁন—‘ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না, হেফাজতের কাছ থেকে শেখেন’

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হেফাজত আমিরের দোয়া নেন রাশেদ খাঁন।
দুপুরে বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছে আল্লামা বাবুনগরীকে জড়িয়ে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। হেফাজত আমিরকে অনুরোধ করেন দোয়া করার জন্য।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রাশেদ খাঁন প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জামায়াত যেহেতু ইসলামী রাজনীতি করে বলে দাবি করছে এবং শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করতে চায়, সেক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীকে বলব, ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে ইসলামের বুকে ছুরি মারবেন না।
তিনি বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার কীভাবে করতে হয়, সেটা হেফাজতে ইসলামের কাছ থেকে আপনারা শেখেন। আপনারা ইসলাম থেকে, ইসলামী মূল্যবোধ থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছেন।
রাশেদ খাঁন আরও বলেন, জামায়াতের সব কার্যক্রম ও কথাবার্তা আসলে এক ধরনের ইসলামের সঙ্গেই দ্বিচারিতা। এটি জামায়াতের কাছ থেকে দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে না।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী বলেন, আপনারা যে ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য মাঠে-ময়দানে রাখছেন, এটি নিয়ে জাতি বিভ্রান্ত হচ্ছে। আজকেও আমাদের আমির যে কথা বললেন, এই সরকারকে সবার সহযোগিতা করা উচিত। সহযোগিতা না করে এই সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে কেন লংমার্চ—এই প্রশ্ন তিনি আজ আমাদের কাছে করেছেন।
হেফাজতে ইসলামের আমিরের বরাত দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, সবার দায়িত্ব, আমরা যারা একসঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম করে ফ্যাসিবাদকে হারিয়েছিলাম, সবার দায়িত্ব সেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রেখে রাষ্ট্র পুনর্গঠন করা। কিন্তু এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো মনোযোগ নেই। জামায়াতে ইসলামী কীভাবে ক্ষমতায় যাওয়া যায়, ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, মোনাফেকি করে তারা সেই চেষ্টা করছে। আর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ তাদের সেই মোনাফেকি আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে জনগণের কণ্ঠস্বর হিসেবে, ইসলামের এক ধরনের কাণ্ডারি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য আমি শ্রদ্ধেয় আমির এবং হেফাজতের সব নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, দেখেন, আমি আগেও স্পষ্ট করেছি, জামায়াতের মুখে একটা, অন্তরে আরেকটা। অর্থাৎ জামায়াতের জন্ম থেকে শুরু করে আজ অবধি মোনাফেকি আচরণ ছাড়া অন্য কোনো আচরণ তাদের কাছ থেকে আমরা এখনো পর্যন্ত দেখছি না। জামায়াত মুখে বলছে সরকারকে সহযোগিতা করছে। অন্যদিকে আমরা লক্ষ্য করছি, কীভাবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে এনে সেই ৯৬-এর মতো আন্দোলন করা যায়, সেই অপচেষ্টা জামায়াত করছে। আর সেই সন্দেহ-সংশয় সবার মধ্যে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের ভাষা আর জামায়াতের ভাষার মধ্যে এই মুহূর্তে কোনো পার্থক্য নেই। তারা ডিসেম্বর মাসকে বেছে নিয়েছে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। এই মাসে আমরাও ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে থাকব। আমরা দেখতে চাই, ডিসেম্বরে কারা সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করে। যারা এই সরকারকে সহযোগিতা না করে সরকার পতনের আন্দোলন করবে, সরকারকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করবে, তাদের বাংলাদেশের জনগণ রুখে দেবে, ইনশাআল্লাহ।
রাশেদ খাঁন বলেন, আজ জুমার দিনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি এবং তার দোয়া নিয়েছি। তিনি বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য দোয়া করেছেন। তিনি বিএনপি এবং বাংলাদেশের মানুষকে ইসলামী মূল্যবোধের ওপর বিশ্বাস রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির আল্লামা আইয়ুব বাবুনগরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম, সহকারী কমিশনার রহমত উল্লাহ, গণঅধিকার পরিষদের নেতা তৌহিদ, ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম, বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর, যুবদল নেতা মোজাহারুল ইকবাল লাভলু, ছাত্রদল নেতা মহি উদ্দিন মেসি ও জিয়া মঞ্চের নেতা ওহিদুল আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
source: The Daily Campus