‘বিহারি বগা’কে গ্রেপ্তারচেষ্টা নিয়ে চট্টগ্রামের মেয়র শাহাদাতের ক্ষোভ, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুলশীর ওসি বদলি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনের ক্ষোভ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মাথায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিমকে বিশেষ শাখায় (সিটিএসবি) বদলি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।
সিএমপি কমিশনার হাসিব শওকত আলীর স্বাক্ষরিত এক প্রশাসনিক আদেশে এই রদবদল আনা হয়। ‘জনস্বার্থে’ জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই আদেশে নগরীর আকবরশাহ ও চকবাজার থানার ওসি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে; যেখানে আকবরশাহ থানার ওসি কামরুজ্জামানকে খুলশী থানার নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে দুপুরে চসিক মেয়র শাহাদাত হোসেন খুলশী থানার ওসি আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন। মেয়র প্রশ্ন তোলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাকলিয়া থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা কীভাবে পুনরায় খুলশীর মতো কৌশলগত থানার ওসির দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা যুবলীগের কোনো চিহ্নিত নেতাকে গ্রেপ্তার করেননি বলেও অভিযোগ করেন মেয়র।
এদিকে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারি বগা’কে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানের ঘটনায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান মেয়র। চসিক ভবনে বগাকে গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়া ও নিজের গাড়িতে করে তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে মেয়র বলেন, কোনো সাংবাদিক এ তথ্য প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন জানান, ওয়াকিল আওয়ামী লীগের কোনো সন্ত্রাসী নয়, বরং গত ১৭-১৮ বছর ধরে রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত এবং জুলাই-আগস্টের একজন যোদ্ধা। বিগত সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৭০-৮০টি মামলা দেওয়া হয়েছে। মেয়র আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, সিটি করপোরেশন নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত এবং ভবনের বাইরে থাকা কোনো পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করার একচ্ছত্র দায়িত্ব পুলিশের।
অন্যদিকে পুলিশ স্পষ্ট করেছে যে, চসিক ভবনের ভেতরে ওয়াকিল হোসেন ছিলেন এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের কাছে ছিল না। আশপাশের এলাকায় তার উপস্থিতির খবরের ভিত্তিতেই গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয় এবং তার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘বিহারী বগা’ হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ২৩টি মামলা রয়েছে। সম্প্রতি এক কলেজশিক্ষককে মারধরের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে অনুসারীদের হামলায় ওসিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। শৃঙ্খলাভঙ্গের নানা অভিযোগে চলতি বছরের জুনে তাকে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
source: Azadir Dak