News
ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও হুমকির নিন্দা জানালেন ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তি

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অনলাইনে অপপ্রচার, হয়রানি ও ব্যক্তিগত হুমকির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন ১২ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারা বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যাচার ও অনলাইন হয়রানি চালিয়ে জুলাইয়ে মানুষের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা এসব কথা বলেন। বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ যখন বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, দুর্নীতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের পতন, পদ্ধতিগত নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিপর্যস্ত দেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছে। ওই সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো নিন্দনীয় চর্চার অবসান ঘটেছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। তখন প্রত্যাশা ছিল, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার রক্ষার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
তবে কিছু রাজনৈতিক দুষ্কৃতকারী ও স্বার্থান্বেষী মহল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে এবং তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন বিবৃতিদাতারা। তাদের ভাষায়, এসব কাপুরুষোচিত কর্মকাণ্ডের লক্ষ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের মানুষ ও তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার এবং মর্যাদার ঐতিহাসিক অঙ্গীকার অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় মুছে ফেলা যাবে না।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ও ড. এম ফজলুল কবির খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আদিলুর রহমান খান, শিক্ষাবিদ সি আর আবরার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক ই আজম, উবিনীগের নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার, সমাজবিজ্ঞানী শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, চলচ্চিত্র পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
source: The Dhaka Diary