News

জামায়াতের দাবি নাকচ, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইসির ‘না’

এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা© সংগৃহীত
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) এমন প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করা হয়েছে। তবে কমিশন বলছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশের জন্য বড় অন্তরায় হতে পারে। এ কারণে তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখার চিন্তাভাবনা করছে ইসি।
 
রবিবার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ অবস্থানের কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
 
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেটি আইন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিসভা ও পরে সংসদে যাবে। সেখানে আলোচনা, তর্ক ও বিতর্কের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।
 
নির্বাচন কমিশনার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে তাঁদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। একই শিক্ষক একদিকে কোনো প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন। আবার অন্যদিকে তাঁকেই প্রিসাইডিং বা পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিতে হতে পারে। এতে নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
 
আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজটা হচ্ছে একটা নিরপেক্ষ, সুন্দরভাবে সুষ্ঠুভাবে বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে নির্বাচনটা উঠিয়ে আনা। যারা শিক্ষকতা করেছেন তাঁরা সবার সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁরা যাতে বিতর্কিত না হোন…এর মধ্যে কেউ ইলেকশনে দাঁড়ালেন, সহকর্মীরা তাঁর পক্ষে কাজ করবেন; আবার তাঁদেরকেই প্রিসাইডিং, পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে হচ্ছে। অপরপক্ষ বলবে যে তাঁরা তো নিরপেক্ষ না।’
 
তিনি বলেন, ‘সে কারণেই নির্বাচন কমিশনের অবজারভেশন হচ্ছে তাঁদের ভোটের বাইরে রাখা। শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয় সেটাকে বিবেচনায় রেখে নির্বাচন কমিশন এই চিন্তাভাবনাটা করছে।’
 
তবে এটিকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না কমিশন। আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘এখনো চূড়ান্তভাবে হয়নি। সেটা আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে, ক্যাবিনেটে যাবে, সংসদে প্লেস হবে, তর্ক হবে, বিতর্ক হবে। তারপরে আইন হিসেবে আসবে। সেটা যদি সবাই কনসেন্সাসে আসে তবে হবে; না হলে না হবে।’
 
নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে জামায়াতে ইসলামী। এসব বৈঠকের পর দলটির নেতারা সাংবাদিকদের কাছে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। জামায়াত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে ইসির প্রস্তাবকে অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক বলেও দাবি করা হয়েছে।
 
একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পদধারীদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটে রাখাসহ নয় দফা দাবি জানিয়েছে দলটি। তবে অরাজনৈতিক বা নির্দলীয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক পদধারীদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণার দাবি নিয়ে ইসির কিছু বলার নেই বলে মন্তব্য করেন আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
 
তিনি জানান, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দলীয় মনোনয়ন ছাড়া অরাজনৈতিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। সেই অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালাও সংশোধন করা হবে।
 
কোনো নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের কেউ এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘অরাজনৈতিকভাবে নির্বাচন তো হতেই হবে। যেহেতু আইন রয়েছে।…সেখানে কি এই বিষয়টা আমাদের নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কি বলার সুযোগ আছে? বলার সুযোগ তো নেই।’
 
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর জামায়াতের নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। তাঁদের ভাষায়, কমিশনকে অসহায় মনে হচ্ছে। ইসির ওপর সরকারি চাপ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিল দলটি।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমি চাপে আছি, নাকি স্বাধীন আছি এটা তো আমি জানি। বরং এ কথা বলে আমাদের চাপে রাখারই তো একটা ফর্মুলা আমি মনে করি। কারণ আমরা যেটা করি না, নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করে না সেটা যদি আপনি চাপায় দেওয়ার চেষ্টা করেন সেটাও সঠিক না।’
 
গণমাধ্যমে ইসিকে নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সুতরাং আপনার ভাবনা চিন্তা আপনার মতো করে আপনি করতেই পারেন। সবগুলো যে সব ক্ষেত্রে সঠিক হবে তা না।’ এদিকে আসন্ন নির্বাচনগুলোকে সামনে রেখে প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার।
 
তিনি জানান, উপনির্বাচনে ভোটারদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
 
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপি রোধে সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যাও বহুগুণ বাড়ানো হবে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ব্যবহার করা হবে ড্রোন প্রযুক্তি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

source: The Dhaka Diary

Back to top button