News
এলপি গ্যাসে আরও একলাফ, এবার বাড়ল ২২৩ টাকা

ভোক্তা পর্যায়ে আবারও বেড়েছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। নভেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮টা থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হয়েছে।
সোমবার নতুন দাম ঘোষণা করে বিইআরসি। এর আগে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা।
বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানিকারক, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোর কারণে দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
নতুন সিদ্ধান্তে ১২ কেজি সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৮১ টাকা ৭৬ পয়সা করা হয়েছে। ডিলারদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫ টাকা এবং খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিইআরসি প্রতি মাসে এলপিজির দাম নির্ধারণ করলেও বাজারে ঘোষিত দামে সিলিন্ডার পাওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে তখন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়।
এর আগে সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই এলপিজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে আমদানিকারকেরা সরবরাহ কমিয়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হতে থাকে সিলিন্ডার। কোথাও কোথাও ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতা দেখিয়ে পাঁচটি কোম্পানি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুত করে রেখেছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরির মতো পরিস্থিতি ছিল না বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এলপিজির মূল্য নির্ধারণ ও ব্যবসায়ীদের কমিশন পুনর্নির্ধারণ নিয়ে গত ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করে বিইআরসি। সেখানে নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়া এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ভোক্তারা।
শুনানিতে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি এলপিজি আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দেশে বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করে বিইআরসি। এরপর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির দাম ঘোষণা করে আসছে সংস্থাটি।
source: The Dhaka Diary